Published : 14 Mar 2026, 03:05 AM
আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার রাতের এই হামলায় কান্দাহার বিমানবন্দরের কাছে কাম এয়ার নামক একটি বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থার জ্বালানি তেল ডিপো আক্রান্ত হয়। এছাড়াও, রাজধানী কাবুল এবং নানগারহার প্রদেশেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার জানিয়েছে, এই হামলায় শিশুসহ মোট ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। কাবুলে বসবাসকারী ৩৫ বছর বয়সী মুরসেলিন, যিনি তাঁর স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান নিয়ে থাকেন, হামলার রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়। চারদিকে ধুলোয় ঢেকে গিয়েছিল। কয়েক মুহূর্ত পর সন্তানদের কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম।
তারা ভয়ে চিৎকার করছিল।” মুরসেলিন আরও জানান, এই হামলায় তাঁর বোন এবং তাঁর দুই সন্তান আহত হয়েছেন। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানের এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন এবং এর সমুচিত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, হামলার শিকার হওয়া জ্বালানি তেল ডিপোটি বেসরকারি উড়োজাহাজগুলোর তেল সরবরাহের প্রধান উৎস ছিল, এবং এখানে জাতিসংঘের উড়োজাহাজও তেল নিত। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে এমনিতেই অঞ্চলটি অস্থির, তার ওপর পাকিস্তানের এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। এর আগে গত মাসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল, যেখানে ইসলামাবাদ প্রথম হামলা শুরু করে। কাবুল এটিকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করে এবং পাল্টা হামলা চালায়, যাতে বহু মানুষ প্রাণ হারায়।
চীনের হস্তক্ষেপে সেই সংঘাত প্রশমিত হয়। এরপর গত সপ্তাহ পর্যন্ত পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো বিমান হামলার খবর পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার রাতের হামলায় পাকিস্তানের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশের চারটি সামরিক ঘাঁটি তারা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। কান্দাহারের তেল ডিপোয় হামলার কথাও তারা স্বীকার করেছে। তবে পাকিস্তান সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।।
বন্দরের ওপর মার্কিন হামলা: তেহরানের তীব্র নিন্দা, ওমানের প্রতি সমর্থন