Published : 03 Jun 2026, 05:12 PM
বরগুনার আমতলী উপজেলায় একটি নতুন বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খোলার সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দুই শ্রমিকের জীবন কেড়ে নিল বিষাক্ত গ্যাস। বুধবার সকালে আমতলী একে স্কুল এলাকার কাছে এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। মারা যাওয়া দুজন হলেন জাহিদুল হাওলাদার (৩৫) এবং জাফর হাওলাদার (৫০)। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। স্থানীয় সূত্র এবং ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. ইউসুফ আলী একে স্কুল এলাকায় একটি পাকা ভবন নির্মাণ করছিলেন। আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে ওই ভবনের সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খোলার কাজ শুরু করতে গিয়ে শ্রমিক জাহিদুল ও জাফর ট্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রথমে জাহিদুল ট্যাংকের নিচে নামার পরই চিৎকার শুরু করেন। পরিস্থিতি বুঝতে না পেরে জাফরও তাঁকে বাঁচাতে ট্যাংকের ভেতরে নামেন, কিন্তু তিনিও অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শী মশিউর রহমান জানান, সকাল সাড়ে আটটার দিকে শ্রমিক জাহিদুল ইসলাম ট্যাংকে নামার সময় ডাক চিৎকার দেন, তাঁকে রক্ষা করতে অন্য শ্রমিকও নামলে তিনিও নিস্তেজ হয়ে যান। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর তাদের উদ্ধার করেন। উদ্ধারকালে তারা নিস্তেজ অবস্থায় ছিলেন। উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা মারাত্মক বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তাঁদের শ্বাস বন্ধ হয়ে এই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত জাহিদুলের বাবা আজিজ হাওলাদার এবং জাফর হাওলাদারের বাবা ইউনুস মিয়া। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, ভবনমালিক মো. ইউসুফ আলী এই ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।
নিহত জাফর হাওলাদারের ভগ্নিপতি রুহুল আমিন অভিযোগ করেছেন যে, ভবনের মালিকের অসতর্কতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস পরিদর্শক আবু হানিফ জানান, শ্রমিকেরা অসাবধানতাবশত ট্যাংকে নেমে এই দুর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর বিষাক্ত গ্যাস নিষ্ক্রিয় করে ট্যাংকের মুখ ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা লুনা বিনতে হক নিশ্চিত করেন যে, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁরা প্রাণ হারান। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।