Published : 22 Apr 2026, 11:09 PM
“রানা প্লাজা ধসে আমার হাত কেড়ে নিয়েছে। শুধু আমি নই, আরও অনেকে এমন পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। কিন্তু ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা ঘটনার ন্যায্য বিচার, পুনর্বাসন আর চিকিৎসার আলো দেখিনি। রানা প্লাজা ভেঙে পড়ার আগে আমি মাস্টার্স পাশ করেছিলাম, কিন্তু এখন সেই ডিগ্রির কী মূল্য? হাত হারিয়ে আমি আজও কর্মহীন, রাস্তায় ঘুরে বেড়াই”—রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পর নিজের বেদনার কথা জানালেন আহত সাদ্দাম হোসেন। একই ঘটনার শিকার শ্রমিক নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, রানা প্লাজার আহত ও নিহত শ্রমিকদের পরিবারগুলো এখন কেমন জীবন যাপন করছে, সেদিকে কেউ ফিরেও তাকায় না। শ্রমিকেরা আজও রাস্তায় রাস্তায় কান্নায় ভেঙে পড়ছে, আর কতদিন তারা কাঁদবে, সেই প্রশ্ন তিনি জাতির সামনে তুলে ধরেন। আজ বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় রানা প্লাজা ধসে আহত এই দুই শ্রমিক তাঁদের দুর্দশার কথা জানান। ‘রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ১৩ বছর: বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম। সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব সভাটি পরিচালনা করেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, এই ঘটনায় ১ হাজার ১৩৫ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমদ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক বিশ্বজিৎ রায়, শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মেজবাউদ্দিন আহমেদ, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) যুগ্ম সমন্বয়কারী এ এস এম ফয়েজ হোসেন ও শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের সদস্যসচিব সেকেন্দার আলী আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে রানা প্লাজা ধসে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কলকারখানায় আগুন লাগা বা হত্যাকাণ্ডগুলো শুধু দুর্ঘটনা নয়, এগুলো চরম অবহেলা ও তাচ্ছিল্যের ফল। শুধু ঢাকায় বসে আলোচনা করলেই হবে না, শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে আন্দোলন শুরু করতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে যে নিরাপত্তা আমাদের জন্মগত অধিকার।’ সভাপতির বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, মুনাফালোভী মালিকদের কারণেই রানা প্লাজার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
ভবন ত্রুটিপূর্ণ ছিল, তা জানা সত্ত্বেও শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। শ্রমিকেরা যদি সংগঠিত হতো, হয়তো এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। তাই শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়ে আরও বেশি সোচ্চার ও সচেতন হতে হবে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, এত কম সংখ্যক লোকবল দিয়ে বিপুল সংখ্যক কারখানা তদারক করা প্রায় অসম্ভব। এছাড়া শ্রম অধিদপ্তরের অধিকাংশ সময় শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও পাওনা আদায়ের পেছনে ব্যয় হয়। ফলে নিরাপত্তা তদারকি অনেক সময় পিছিয়ে পড়ে। সভায় তাজরীন ফ্যাশনস দুর্ঘটনায় আহত জরিনা আক্তার, হাশেম ফুডসের দুর্ঘটনায় নিহত পরিবারের সদস্য লিপি আক্তার ও সম্প্রতি ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীর গ্যাসলাইট কারখানায় আহত মরিয়ম বেগমসহ বিভিন্ন কারখানায় দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।।
বরগুনায় নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু