Published : 02 Apr 2026, 09:08 PM
বৈশাখের শুরুতেই রাজশাহীর জনজীবনে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বেড়েছে। গত দুই দিন ধরে মৃদু তাপপ্রবাহে কাহিল হয়ে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। প্রখর রোদে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকেরা নিস্তেজ হয়ে পড়ছেন। শহরের পঞ্চবটী এলাকায় ইট ভাঙার মেশিনের পাশে দেখা গেল মো. রেজাউল করিমকে। গামছা বাঁধা মাথায়, ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে তিনি কাজ করছেন, আর কিছুক্ষণ পরপর হাত দিয়ে ঘাম মুছছেন। তাঁর ভাষ্য, আগের মতো এখন আর কাজ করা যায় না, আধ ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা কাজ করলেই শরীর ভেঙে পড়ে। গরমটা অসহ্য। পাশেই কাজ করছিলেন জাহাঙ্গীর। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বললেন, গরম বেশি হলেও পেটের দায়ে কাজ তো করতেই হবে। শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেল, এই প্রচণ্ড গরমে তাঁদের কাজের গতি কমে গেছে। একটানা কাজ না করে মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
কেউ পানি খাচ্ছেন, কেউ গাছের ছায়ায় জিরিয়ে নিচ্ছেন, তারপর আবার কাজে जुटছেন। শ্রমিক জাহিদুল ইসলাম বললেন, মাঝে মাঝে মেশিন বন্ধ করে একটু দম নিতে হয়, না হলে কাজ করা অসম্ভব।রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ রহিদুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে সামান্য বেশি ছিল। আজ সকাল ছয়টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। সেই হিসেবে রাজশাহীতে গত দুই দিন ধরে এই অবস্থা চলছে।রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্র জানায়, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছিল। মাঝে একটু বৃষ্টি হওয়ায় স্বস্তি মিলেছিল, কিন্তু গত দুই দিন ধরে আবার তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী, এবং এমন পরিস্থিতি আরও কিছুদিন থাকতে পারে।এই গরমে শুধু শ্রমিকরাই নন, সাধারণ মানুষও বিপাকে পড়েছেন। কাজলা এলাকায় রিকশাচালক সোহেল রানা গামছা মাথায় বেঁধে যাত্রী খুঁজছিলেন। তাঁর বললেন, আজ গরমটা একটু বেশি, তাই মানুষজন তেমন বের হচ্ছে না, ফলে আয়ও কমে গেছে।
রোদ থেকে বাঁচতে অনেকে ছাতা ব্যবহার করছেন, কেউ গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। আলুপট্টির পদ্মা নদীর ধারে গাছতলায় বসে ছিলেন মো. বাতেন। তিনি বললেন, একটা কাজে শহরে এসেছিলেন, কিন্তু রোদে কোথাও দাঁড়ানো যাচ্ছে না, বাতাসও গরম, তাই একটু জিরিয়ে নিচ্ছেন।এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তাপপ্রবাহের প্রভাব মোকাবিলায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ শংকর কে বিশ্বাস জানান, উত্তরবঙ্গে এমনিতেই গরম বেশি থাকে। এই বছর গরমের কারণে অসুস্থ রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে। হাসপাতালে একটি ‘হিট স্ট্রোক কর্নার’ খোলা হয়েছে। গরমে সুস্থ থাকতে তিনি বাইরের ভাজাপোড়া খাবার ও অস্বাস্থ্যকর শরবত এড়িয়ে চলতে, ঢিলেঢালা পোশাক পরতে, ছাতা ব্যবহার করতে এবং সরাসরি সূর্যের আলো এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেন। পাশাপাশি, প্রচুর পরিমাণে তরল পান করার কথা বলেন, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের কথা জানান।।
বরগুনায় নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু