Published : 22 Jul 2026, 09:14 PM
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহ-উপাচার্য পদে অধ্যাপক মুহাম্মদ শরীফুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের একজন বিশিষ্ট অধ্যাপক। এই নতুন পদে তিনি অধ্যাপক আবদুল হাসিব চৌধুরীর স্থান গ্রহণ করবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা বুয়েটের অধ্যাদেশের অধীনে সম্পন্ন হয়েছে। এই নিয়োগের সময়কাল যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসরের তারিখের মধ্যে যেটি আগে ঘটবে, সেই সময় পর্যন্ত অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম এই পদে বহাল থাকবেন। সহ-উপাচার্য পদে তিনি বর্তমান অধ্যাপকের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক অবস্থান করবেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধির অধীনে নির্ধারিত ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে চ্যান্সেলর বা রাষ্ট্রপতির প্রয়োজন অনুসারে যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম বুয়েটের চতুর্থ সহ-উপাচার্য। তিনি পুরকৌশল বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৯৭ সালে একই বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। উচ্চতর গবেষণার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল গভীর। তিনি ২০০২ সালে জাপানের সাইতামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সেখান থেকে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রগুলি অত্যন্ত বিস্তৃত; এর মধ্যে রয়েছে জৈবপ্রকৌশল, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো, দুর্যোগ-সহনশীল আবাসন, সবুজ নির্মাণ সামগ্রী এবং নদীর বালি ও স্থানীয় বর্জ্য উপকরণ ব্যবহার করে আর্থ-ব্লক প্রযুক্তি। তাঁর উদ্ভাবিত ভেটিভারভিত্তিক জৈবপ্রকৌশল প্রযুক্তি বর্তমানে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে।
গবেষণা ও একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশ-বিদেশের ২৯টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। এছাড়াও, তিনি দেশ-বিদেশের ৯০টিরও বেশি এমএস ও পিএইচডি গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৩ সালে তিনি বুয়েটে পূর্ণ অধ্যাপক হিসেবে পদমর্যাদা লাভ করেন। বর্তমানে তিনি পুরকৌশল বিভাগে অধ্যাপনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এর (রাইজ) পরিচালক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর গুজব: শিক্ষা বোর্ড কী বলছে, জানুন আসল সত্য