Published : 19 Jul 2026, 09:15 AM
পাসপোর্টে থাকা শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ যত দিন, তত দিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবে—এই ধারণাটি ভুল। বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন। এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতিপত্র। দেশটিতে প্রবেশের পর একজন শিক্ষার্থী কতদিন বৈধভাবে থাকতে পারবে, তা নির্ভর করে তাঁর অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) স্ট্যাটাসের ওপর। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দীর্ঘদিনের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থা বাতিল করে এক নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আগে অধিকাংশ এফ–১ শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় নির্দিষ্ট কোনো শেষ তারিখ পেতেন না এবং তাঁদের ইলেকট্রনিক আই–৯৪ রেকর্ডে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ উল্লেখ থাকত। এই নিয়মের অধীনে থাকার জন্য শিক্ষার্থীদের কিছু শর্ত পূরণ করতে হতো, যেমন: অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকা, প্রয়োজন অনুযায়ী পূর্ণকালীন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, অভিবাসন বিধি মেনে চলা এবং কোর্স শেষ হওয়ার পর নির্দিষ্ট গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে দেশ ত্যাগ বা ভিসার ধরন পরিবর্তন করা।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এফ–১ শিক্ষার্থীদের আর ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’-এর ভিত্তিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকার অনুমতি দেওয়া হবে না। এর পরিবর্তে, শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক প্রোগ্রামের সময়কাল অনুযায়ী, সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। যদি কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা শেষ করতে এর চেয়ে বেশি সময় লাগে, তবে তাঁকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার কাছে ‘এক্সটেনশন অব স্টে’-এর জন্য আবেদন করতে হবে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা: যে ৮ কারণে স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন বাতিল হতে পারে ২০২৬ সালের ১৮ জুলাই ধরা যাক, একজন শিক্ষার্থী চার বছরের স্নাতক (ব্যাচেলর) প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছেন। তিনি যদি নির্ধারিত সময়ে পড়াশোনা শেষ করেন, তাহলে অতিরিক্ত কোনো আবেদন ছাড়াই গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে পারবেন। আগে এই ধরনের প্রোগ্রামের সম্প্রসারণ মূলত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ‘স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ইনফরমেশন সিস্টেম’ (SEVIS)-এর মাধ্যমে পরিচালিত হতো। নতুন নিয়মে এই দায়িত্ব সরাসরি ফেডারেল সরকারের অধীনে এসেছে। নতুন নিয়ম এফ–১ ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা, প্রক্রিয়া বা পাসপোর্টে উল্লেখ থাকা ভিসার বৈধতার মেয়াদে কোনো পরিবর্তন আনেনি।
প্রাথমিকভাবে বদলি কমিটিতে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ বাদ দিয়ে সাতটি নতুন শর্ত যুক্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগের ডি/এস (D/S) ব্যবস্থায় কিছু বিদেশি শিক্ষার্থী ধারাবাহিকভাবে নতুন নতুন প্রোগ্রামে ভর্তি হয়ে দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারতেন। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট সময় পরপর শিক্ষার্থীদের বিষয়ে নিয়মিত সরকারি পর্যালোচনা এবং জালিয়াতি প্রতিরোধ সহজ হবে। নতুন নিয়মে কোর্স শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত গ্রেস পিরিয়ডও কমিয়ে ৩০ দিনে করা হয়েছে। আগে অধিকাংশ এফ–১ শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করার পর ৬০ দিন সময় পেতেন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে, অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হতে বা অভিবাসন স্ট্যাটাস পরিবর্তন করতে।।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে কেউ কেউ ঘুরিয়ে ষড়যন্ত্র করতে চায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী