Published : 06 Mar 2026, 07:06 PM
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাক্তন সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) এবং প্রাক্তন সচিব খায়রুল ইসলাম (মান্নান), তাঁর স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ এনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। খায়রুল ইসলাম বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) প্রাক্তন নির্বাহী সদস্য। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাঁদের পারস্পরিক যোগসাজশে প্রতারণা ও অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় সিআইডি গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশান থানায় এই মামলা দায়ের করে। আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি বিষয়টি জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযুক্ত খায়রুল ইসলামের স্ত্রী ইসরাত জাহানের নামে ‘মেঘমালা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ এবং তাঁদের ছেলে মোরসালিন ইসলামের নামে ‘মেঘমালা এস্টেট লিমিটেড’ নামের দুটি বেনামি কোম্পানি তৈরি করে ২০১২ সালে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ৪০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। ঋণের আসল উৎস গোপন করার জন্য বিভিন্ন হিসাবে টাকা স্থানান্তর করা হয় বলে অভিযোগ সিআইডির।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঋণের টাকা মোরসালিনের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখার হিসাবে জমা করা হয়। এরপর সেখান থেকে ৪০ কোটি টাকা ডেবিট করে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের বনশ্রী শাখার একটি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া ওই ঋণের অর্থ দিয়ে মোরসালিন ইউনিয়ন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠালগ্নে স্পন্সর শেয়ার কেনেন। এভাবে অভিযুক্তরা ঋণের ৪০ কোটি টাকা পরিশোধ না করে প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করেন এবং সেই অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করেন। এই ঘটনায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব খায়রুল ইসলামকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয়।
ওই মাসেই তাঁকে অবসরোত্তর ছুটিতে পাঠানো হয়। এরপর অক্টোবরে সরকার তাঁকে বিডার নির্বাহী সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। কর্মজীবনে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস–১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।।
সরকারি ভাতার নামে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ: বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে শোকজ