Published : 05 Jun 2026, 01:11 AM
মার্কিন মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্মত হওয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। এর কারণ হলো ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহারের শর্ত মানতে নারাজ। এদিকে, বৃহস্পতিবারও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকে। ইসরায়েলের দাবি, তারা সেখান থেকে কোনো সেনা প্রত্যাহার করবে না। যদিও গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্র এই দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছিল, তবে শর্ত ছিল ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর হামলা বন্ধ করতে হবে এবং সীমান্ত সংলগ্ন লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তাদের যোদ্ধাদের সরে যেতে হবে। এই আলোচনাকে 'লজ্জাজনক' আখ্যা দিয়ে হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম তীব্র প্রতিবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘যতদিন এই দখলদারি চলবে, ততদিন প্রতিরোধ চলবে।’ উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একসঙ্গে ইরানে আক্রমণ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এরপর মার্চ মাসে হিজবুল্লাহও ইসরায়েলে আক্রমণ শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র এপ্রিল মাস থেকে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একাধিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও, এই সংঘাত থামেনি। এই পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবি তুলেছে।
এই চলমান আলোচনায় হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের সংঘাত এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম আরও জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতিতে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলও অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক, যেখানে ইসরায়েল একটি কথিত নিরাপত্তা অঞ্চল বা বাফার জোন তৈরি করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যদি বোমা হামলা বা ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয় এবং জনগণের ওপর আঘাত আসে, তবে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের শহরগুলোও সুরক্ষিত থাকবে না। ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কুদস ফোর্স ১৯৮২ সালে হিজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠা করে। এই কুদস ফোর্সের কমান্ডার দাবি করেন, প্রতিরোধের সর্বনিম্ন দাবি হলো ইসরায়েলের সেনাদের ২৮ ফেব্রুয়ারির আক্রমণের আগের অবস্থানে ফিরে আসা।।