Published : 10 May 2026, 05:07 AM
পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে শান্তি আলোচনার পথ কঠিন হয়ে পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক গোয়েন্দা বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, তেহরান অন্তত আরও চার মাস আন্তর্জাতিক অবরোধ মোকাবিলা করে টিকে থাকতে সক্ষম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সিআইএ-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধের কারণে আগামী চার মাসে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেবে না। এর অর্থ হলো, তেহরানের উপর ওয়াশিংটনের চাপানোর কৌশল আপাতত খুব একটা ফলপ্রসূ নাও হতে পারে। ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম এই তথ্য প্রকাশ করে। তবে, এক উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তা এই বিশ্লেষণকে ভুল আখ্যা দিয়ে বলছেন, অবরোধের কারণে ইরানের আয় কমে যাচ্ছে এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। গত এক মাস আগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও, হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উত্তেজনা বেড়েছে। শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতও হামলার শিকার হয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনার পূর্বে, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা যায়। রোমে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা এখন তেহরানের কাছ থেকে কোনো সংবাদের অপেক্ষায় আছি।’ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেহরান এখনো প্রস্তাবটি বিবেচনা করছে। ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বাহিনী ও মার্কিন নৌবাহিনীর মধ্যে ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের বন্দরে প্রবেশের চেষ্টাকারী দুটি সন্দেহভাজন জাহাজকে বিমান হামলার মাধ্যমে পিছু হটতে বাধ্য করেছে। ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর ইরান প্রণালি দিয়ে বিদেশি জাহাজ চলাচল সীমিত করে দিয়েছে। গত মাসে ওয়াশিংটন ইরানি জাহাজের উপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০১ ডলার ছাড়িয়েছে।
সংঘাত শুধু জলপথেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি ছড়িয়ে পড়ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, শুক্রবার তারা ইরান থেকে আসা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও তিনটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। ইরান বারবার সেই সব উপসাগরীয় দেশকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা সামরিক পথে হাঁটছে। একই দিনে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের ড্রোন তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে চীন ও হংকংয়ের ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি রোধে তারা অর্থনৈতিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। খুব শীঘ্রই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন সফর হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।।
ইরানের সাথে চুক্তি প্রায় সম্পন্ন, হরমুজ প্রণালী খুলছে: ট্রাম্পের ঘোষণা