Published : 17 Aug 2026, 05:16 PM
ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়ের হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আদালত আগামী ১২ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করেছে। এই নতুন সময়সূচিটি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আলমগীর হোসেনের আদালত আজ সোমবার নতুন করে ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি বেলাল হোসেন জানান, আজ এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এই উপলক্ষে কারাগারে থাকা চার অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে আদালতের জারি করা নির্দেশ সত্ত্বেও সাক্ষীরা উপস্থিত না হওয়ায় আসামিদের পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট ঢাকার গোরান এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় নীলাদ্রিকে হত্যা করার মাধ্যমে। সেই দিন সন্ধ্যায় এক ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে আনসার আল ইসলাম নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে হত্যার দায় স্বীকার করে নেয়। পরের দিন রাতে নীলাদ্রিয়ের স্ত্রী আশামনি খিলগাঁও থানায় এই মর্মে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করা হয়।
পাঁচ বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে রিফাত ওরফে ফাহিম ওরফে জিসান, মাসুদ রানা, আরাফাত রহমান সিয়াম, মোজাম্মেল হোসেন সায়মন, সাদ আল নাহিন, তারেকুল আলম, মাওলানা মুফতি আবদুল গাফ্ফার, মর্তুজা ফয়সাল সাব্বির, কামাল হোসেন সরদার, কাউসার হোসেন খান এবং মো. শেখ আবদুল্লাহ ওরফে জুবায়ের। মামলার নথি অনুযায়ী মোট পনেরো জন সাক্ষী রয়েছেন। তাদের মধ্যে আশামনিসহ পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০২২ সালের আগস্টে প্রথম সাক্ষ্য দেন আশামনি। প্রসঙ্গত, নিহত নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় (২৭) গণজাগরণ মঞ্চের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তিনি ‘নিলয় নীল’ নামে বিভিন্ন গোষ্ঠীবদ্ধ ব্লগে লিখতেন এবং ফেসবুকেও একই নামে পরিচিত ছিলেন। ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট দুপুর একটার দিকে নীলাদ্রি খিলগাঁওয়ের একটি ভাড়া বাসায় ল্যাপটপ নিয়ে শোবার ঘরে কাজ করছিলেন।
কড়া নাড়ার শব্দে দরজা খুলে দেন তাঁর স্ত্রী আশা মণি। ভাড়ার কথা বলে ওই ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করেন। ভেতর থেকে নীলাদ্রি বেরিয়ে এসে বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেওয়ায় আরও তিন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে পড়ে। তারা নীলাদ্রিয়ের স্ত্রী আশা মণি এবং বেড়াতে আসা তাঁর ছোট বোন তন্বীকে আটকে রেখে ছুরি ও চাপাতি দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করে তাঁকে হত্যা নিশ্চিত করে। এরপর তারা নীলাদ্রিয়ের ল্যাপটপ ও মোবাইল কেড়ে নেয়। পরবর্তীতে আশামনি খিলগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যার তদন্তভার ডিবি পুলিশ গ্রহণ করে।।
বিসিএস প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের পর্দাফাঁস: পিএসসি কর্মকর্তার আত্মসমর্পণ, কারাগারে গেলেন অভিযুক্ত