Published : 14 Aug 2026, 12:16 PM
দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা ও দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, আগে অনুমোদিত রপ্তানি কোটাগুলো পুনর্বিবেচনা করে তা কমানো বা সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে, মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কত পরিমাণ চাল রপ্তানি করেছে, সেই বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে বলেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। গত দুই মাসে চিনিগুড়াসহ বিভিন্ন প্রকার সুগন্ধি চালের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩০ টাকা হয়েছে, যা বাজার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, অনেক দোকানে সুগন্ধি চালের সরবরাহও কমে গেছে।
এই সংকট মোকাবিলায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানির ওপর আরও কঠোর নজরদারি আরোপ করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার বৃদ্ধি বিবেচনা করে পূর্বে অনুমোদিত রপ্তানি পরিমাণ হ্রাস বা সমন্বয় করা অপরিহার্য। তাই, যে সকল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পাওয়া কোটার চেয়ে কম চাল রপ্তানি করেছে, তাদের অব্যবহৃত অংশ পুনর্বিবেচনার আওতায় আনা হবে। এই প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত সম্পূর্ণ পরিমাণ রপ্তানি করতে পারেনি বা আংশিক রপ্তানি করেছে, তাদের অব্যবহৃত কোটা পর্যালোচনা করা হবে। এর আগে গত ২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চালের উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি এবং রপ্তানির প্রকৃত চিত্র নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে সব দিক খতিয়ে দেখা হয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রথম দফায় ১৩ মে ২১১টি এবং দ্বিতীয় দফায় আরও ৬৭টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে, অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের কোটার আওতায় বরাদ্দকৃত সম্পূর্ণ চাল রপ্তানি করতে পারেনি। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন যে দেশের ১০টি বড় চালকল বিপুল পরিমাণ সুগন্ধি চাল মজুত করে রেখেছে, যার ফলে বাজারে পর্যাপ্ত চাল না ছাড়ায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে এবং এর ফলস্বরূপ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।।