Published : 14 Aug 2026, 12:16 AM
বাংলাদেশে নিজেদের গোপন আস্তানা বা 'সেল' গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে 'ভারত উপমহাদেশীয় আল-কায়দা' (একিউআইএস)। এই কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। নিরাপত্তা পরিষদের 'অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম'-এর ৩৮তম প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়, যা গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতের দিল্লিতে লাল কেল্লায় যে হামলা হয়েছিল, তার পেছনে একিউআইএস-এর হাত রয়েছে। আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গোপন নেটওয়ার্ক ও আস্তানা তৈরির জন্য একিউআইএস যেভাবে দেশটিকে ব্যবহার করতে চাইছে, তা গভীর উদ্বেগের কারণ। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, আল-কায়েদা একটি বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী থেকে এখন আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে রূপান্তরিত হচ্ছে এবং এর জন্য তারা বিভিন্ন স্থানে লজিস্টিক ও অর্থনৈতিক জাল তৈরি করছে।
বড় গ্রুপ হওয়ার পরিবর্তে তারা বিকেন্দ্রীভূত ছোট দল ও বিক্ষিপ্তভাবে কাজ করছে। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল আরও পর্যবেক্ষণ করে বলেছে যে, বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী হুমকির মাত্রা একই থাকলেও আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল এবং দক্ষিণ এশিয়ায় তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে একের পর এক হামলার কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। পর্যবেক্ষক দল জানিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসী হুমকির পরিস্থিতিতে কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি; দেশটিতে এখনও বেশ কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে, যা প্রতিবেশী দেশ এবং মধ্য এশিয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি। যদিও তালেবান কর্তৃপক্ষ ইসলামিক স্টেট খোরাসান ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, তবুও তারা সন্ত্রাসবাদী হুমকি পুরোপুরি দমন করতে পারেনি। বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনে সাহেল, সোমালিয়া, ইয়েমেন ও মধ্য আফ্রিকায় আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেটের বিভিন্ন শাখা-গোষ্ঠীর কার্যকলাপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, সাহেল অঞ্চলে জামা'আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) মালির সরকারের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে জেএনআইএম ও ইসলামিক স্টেট ইন দ্য গ্রেটার সাহারার মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার সুযোগ নিয়ে দক্ষিণ ইয়েমেনে আল-কায়েদা ইন দ্য অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা (একিউএপি) তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। অন্যদিকে, মধ্য আফ্রিকায় অ্যালাইড ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এডিএফ) তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা আরও বিস্তৃত করেছে। প্রতিবেদনে উপসংহারে বলা হয়েছে যে, আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের বিভিন্ন শাখা-গোষ্ঠী অর্থ সংগ্রহ এবং স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে দুর্বল করার জন্য মুক্তিপণ আদায়ের বিনিময়ে অপহরণকে এখনও প্রধান অগ্রাধিকার দিচ্ছে।।
৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ৮০০ কিমি গতি! চীনের বুলেট ট্রেনের অবিশ্বাস্য রেকর্ড