Published : 08 Aug 2026, 08:16 PM
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন ব্যবহারের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, ড্রোন নির্মূল করার জন্য অত্যাধুনিক লেজার প্রযুক্তিতে মার্কিন সেনাবাহিনী বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করতে চলেছে। এই লক্ষ্যে তারা অন্তত চল্লিশ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করবে। ব্লুমবার্গের সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিরক্ষা কৌশলকে নতুন দিকে চালিত করছে এবং এর জন্য 'অ্যারোভাইরনমেন্ট ইনকর্পোরেটেড'-এর কাছ থেকে 'লোকাস্ট' নামের লেজার সিস্টেম সংগ্রহ করবে। এটিই পেন্টাগনের জন্য 'ডিরেক্টেড এনার্জি' প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রথম চুক্তি হতে চলেছে, যা ড্রোন প্রতিহত করার জন্য পরীক্ষামূলক ধাপ পেরিয়ে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত এই 'লোকাস্ট' ব্যবস্থা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লেজার ব্যবহার করে ছোট ও মাঝারি আকারের ড্রোন শনাক্ত করে তাদের ধ্বংস করতে সক্ষম। প্রায় পঞ্চাশ কোটি ডলারের এই চুক্তি প্রমাণ করে যে, ড্রোন ঝাঁক মোকাবিলার জন্য পেন্টাগন এখন অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী এবং টেকসই প্রযুক্তির দিকে মনোনিবেশ করছে। ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অ্যারোভাইরনমেন্টের দেখানো ভিডিওতে দেখা যায়, কীভাবে এই সিস্টেম আকাশে থাকা ড্রোনকে লক্ষ্য করে তীব্র লেজার রশ্মি নিক্ষেপ করে, যার ফলে ড্রোনগুলো পুড়ে বা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। অপারেটররা এমনকি গেম কন্ট্রোলারের মতো যন্ত্র ব্যবহার করে লেজারের নিশানা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তির পাশাপাশি আক্রমণাত্মক ড্রোনের সংখ্যা কমানোর ওপরও জোর দিচ্ছে পেন্টাগন। তবে পরীক্ষার সময় একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে, যখন এই লেজার ব্যবস্থা ভুলবশত সীমান্ত সুরক্ষার ড্রোনকে লক্ষ্যবস্তু করে ভূপাতিত করে, যার ফলে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।।