Published : 06 Aug 2026, 12:16 PM
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা বর্তমানে 'অত্যন্ত কঠিন'। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই নতুন নেতৃত্বের উপস্থিতি দেশের পথচলা অব্যাহত রাখতে এক বিশাল শক্তি যোগাচ্ছে। বুধবার (স্থানীয় সময়) প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে হত্যা করার পর থেকে ইরান হতাশার মুখে ছিল। তাদের ধারণা ছিল এই 'নিষ্ঠুর' পদক্ষেপের ফলে দেশটি ভেঙে পড়বে। কিন্তু তিনি আশার কথা যোগ করেন, 'দেশ এগিয়ে চলেছে এবং আমাদের নতুন প্রিয় নেতার নির্বাচন হয়েছে।' পেজেশকিয়ান আরও বলেন, 'আমাদের এই নতুন নেতা আমাদের জন্য এক বিশাল শক্তি, যা আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এই পথচলা বজায় রাখতে সাহায্য করছে। যদিও বর্তমানে তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা কঠিন।
' পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন যে, কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, বিদেশি আর্থিক লেনদেনে বিধিনিষেধ, নৌ অবরোধ এবং চলমান সংঘাতের কারণে ইরান বর্তমানে এক অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই তথ্য সিনহুয়া সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে। মার্চের শুরুতে ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে নির্বাচন করে, যিনি আলি খামেনির পুত্র। এই পরিস্থিতিতে ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নতুন ব্যবস্থার বিষয়ে প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই নতুন ব্যবস্থায় বর্তমানে ব্যবহৃত অস্থায়ী উত্তর ও দক্ষিণ রুটের পরিবর্তে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্য দিয়ে একটি একক নতুন পথ দুই থেকে চার মাসের জন্য চালু করা হবে। এদিকে, ইরানের আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ এক আধা-সরকারি সূত্র ফার্সকে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে কিনা, তা সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করে তার ওপর। একই সাথে, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় একটি ইরাকি বিমান পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও, এর সঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সমঝোতা স্মারকের সম্পর্ক নেই।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করে এবং ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে তারা ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন জাহাজগুলোর চলাচল বন্ধ করে দেয়। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একাধিকবার হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই হামলাগুলো হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের ওপর ইরানের আক্রমণের জবাব দিতে এবং বাণিজ্যিক চলাচলের পথে হুমকি সৃষ্টি করার ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে।।
পদত্যাগ চাওয়ার গুজব উড়িয়ে দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান