Published : 07 Aug 2026, 01:16 AM
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাঁর পদত্যাগের সম্ভাব্য গুঞ্জনকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই গুজবগুলো মূলত হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতাকারী কট্টরপন্থীদের সঙ্গে তাঁর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল বলে মনে করা হচ্ছে, যারা তাঁকে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু পেজেশকিয়ান এই দাবি সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো আশা করছে যে হরমুজ প্রণালীর বিষয়ে দ্রুত একটি চুক্তি সম্পন্ন হবে। এর জন্য তারা ওমানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং সাময়িক চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। পেজেশকিয়ানের পদত্যাগ সংক্রান্ত খবরটি প্রথমে ইরানের সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয়। দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি মোহাম্মদ বাঘের খারাজি এই চাঞ্চল্যকর দাবি তোলেন।
তিনি অভিযোগ করেন যে পেজেশকিয়ান নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ার কারণে হতাশ এবং বারবার পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন। খারাজি দাবি করেন, খামেনি তাঁকে সতর্ক করেছেন এবং পরবর্তীকালে পদত্যাগ করলে তা গ্রহণ করবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে খামেনির কার্যালয় এই দাবিকে 'সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কূটনৈতিক সাফল্যের জন্য প্রশংসিত হওয়ার পরিবর্তে পেজেশকিয়ানকে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। ক্ষমতায় বসার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন না, বরং তিনি দেশের দায়িত্বে থাকবেন। এই বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার বিষয়ে গভীর কৌশলগত মতবিরোধকে আরও প্রকট করেছে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মেহেদি তাবাতাবেই এই সমস্ত খবরকে 'সম্পূর্ণ মিথ্যাচার ও ভিত্তিহীন' বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন যে মিথ্যাবাদী, প্রতারক ও বেপরোয়া চরমপন্থীদের একটি অশুভ জোট দেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন মেনে নিতে পারছে না। পেজেশকিয়ান ইঙ্গিত দিয়েছেন যে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি ভবিষ্যতে ইরানের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে। তবে এই চুক্তির বিরোধিতা করে ইরানের 'অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস' তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং তারা এই সমঝোতার আশাকে 'বৃথা' বলে অভিহিত করেছে। শান্তি রক্ষার নামে যারা এই অবস্থান গ্রহণ করছে, তাদের আচরণকে তারা 'ক্ষমার অযোগ্য বিশ্বাসঘাতকতা' হিসেবে গণ্য করছে।।
সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ 'অত্যন্ত কঠিন': ইরানের প্রেসিডেন্টের উদ্বেগ