Published : 08 Aug 2026, 06:17 PM
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃবৃন্দ ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনকে কেন্দ্র করে তৈরি 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর' পরিদর্শন করেন। এই পরিদর্শনের পর জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক ও বর্তমান বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জাদুঘরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্মারক অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ তোলেন। তিনি মন্তব্য করেন, 'বিএনপি সম্ভবত ভারতকে ভয় পাচ্ছে।' শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৯টায় এনসিপির অর্ধশতাধিক প্রতিনিধিদল এই ঐতিহাসিক স্থানটি পরিদর্শন করে দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং সাংবাদিকদের সামনে তাদের বক্তব্য পেশ করেন। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাদুঘরটির যে পরিকল্পনা ছিল, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, 'বিশেষত এখানে সীমান্ত হত্যার একটি অংশ এবং ফেলানীর ভাস্কর্য ছিল। সেই স্মৃতিচিহ্নগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
পাশাপাশি মোদিবিরোধী আন্দোলনের কিছু ছবি ও স্মৃতিও মুছে ফেলা হয়েছে।' ভারত সম্পর্কে বিএনপির অবস্থান নিয়ে নাহিদ ইসলাম তীব্র সমালোচনা করে বলেন, 'ভারত গত ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদ ও শোষণের সহযোগী ছিল। যদি তারা ভয় না পেত, তবে ইতিহাসের অংশ কেন থাকবে না? সম্পর্ক ভালো বা খারাপ হওয়া গৌণ; সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদার ভিত্তিযুক্ত।' তিনি আরও অভিযোগ করেন যে জাদুঘরে বর্তমানে দল হিসেবে বিএনপির ওপর চালানো নির্যাতনের তথ্য এবং বক্তব্যকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'জাদুঘরের বর্তমান চিত্রটি দলীয় চর্চার স্থান হওয়া উচিত নয়, এর চরিত্র অবশ্যই জাতীয় হতে হবে। আমরা চাই জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস যেন একইভাবে বিকৃত না হয়।' জাদুঘরটির সীমাবদ্ধতা ও উন্নয়নের প্রস্তাব তুলে ধরে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন দিকগুলো আরও বিস্তারিতভাবে টাইমলাইন ধরে উপস্থাপন করা উচিত।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ভূমিকা এবং ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর প্রতিরোধ ও নৃশংসতার গল্পগুলোও এখানে যথাযথভাবে স্থান দেওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে এখানে কেবল কিছু পরিচিত মুখ বারবার সামনে আসছে।' তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে জাদুঘর পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জনবল বা সক্ষমতা নেই, তাই এটিকে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের রূপ দিতে হবে এবং গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের মাধ্যমেই এটি পরিচালিত হওয়া উচিত। পরিদর্শনকালে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ছিলেন এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, নুসরাত তাবাসসুম, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম, সারোয়ার তুষার, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, মাহিন সরকার, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার এবং চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফিসহ আরও অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।।