Published : 08 Aug 2026, 09:16 AM
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট এবং অন্যান্য সমস্যার কারণে চোখের সমস্ত ধরনের অস্ত্রোপচার সাড়ে সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থগিত রয়েছে। এটি এক অত্যন্ত দুঃখজনক বাস্তবতা। ২৫০ শয্যার এই জেলা সদর হাসপাতালে চক্ষু বিভাগ ও অস্ত্রোপচার কক্ষ (ওটি) বন্ধ রেখে বছরের পর বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবনদায়ী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফলস্বরূপ, হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার অত্যাধুনিক এবং সংবেদনশীল যন্ত্রপাতিও মরিচা ধরে অকেজো হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি সত্যিই হতাশাজনক। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে এই হাসপাতালে সিনিয়র ও জুনিয়র কনসালট্যান্টের দুটি পদই শূন্য রয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ বছর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় বহির্বিভাগের কাজ কেবল প্রাথমিক মেডিক্যাল অফিসারদের মাধ্যমে চালানো হয়েছে।
বর্তমানে মাত্র একজন চিকিৎসক থাকলেও নষ্ট যন্ত্রপাতি এবং পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে অস্ত্রোপচার চালু করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অথচ, অতীতে এই হাসপাতালেই প্রতি মাসে ২০০ জনেরও বেশি রোগীর চোখে সফলভাবে অস্ত্রোপচার হতো। ফলস্বরূপ, ছানি বা চোখের জটিলতায় ভোগা অসহায় রোগীরা এখন উচ্চ মূল্যে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব। চিকিৎসকের অভাবে সেবা থমকে থাকা এবং কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম অব্যবহৃত ফেলে রেখে নষ্ট করা আমাদের সরকারি স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের চরম অব্যবস্থাপনাকেই নতুন করে সামনে এনেছে। ৯৯ লক্ষ টাকার লেজার ও ওসিটি মেশিন এবং ১৫ লক্ষ টাকার অপারেটিং মাইক্রোস্কোপের মতো জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামগুলো অকেজো হয়ে যাওয়া কেবল অবহেলারই প্রতিফলন নয়; এটি প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবের এক স্পষ্ট প্রমাণ। একজন চিকিৎসক বদলি হওয়ার পরেও দেড় শতাব্দীতে বিশেষজ্ঞ পদায়ন না করার দায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এড়াতে পারে না। আমরা মনে করি, কেবল প্রকল্প বা আলোচনার আশ্বাস দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা দূর করা সম্ভব নয়।
হাসপাতালটিতে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করতে হবে। অকেজো হয়ে যাওয়া যন্ত্রপাতি দ্রুত প্রতিস্থাপন করে চক্ষু বিভাগ ও ওটি আবার চালু করা এখন সময়ের দাবি। সরকারি সম্পদ এভাবে ফেলে রেখে নষ্ট করার পেছনে থাকা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। শুধু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অজুহাত দিয়ে আর পার পাওয়ার সুযোগ নেই।।
মার্কিন সিনেটে রুশ নিষেধাজ্ঞার বিল পাশ: ভারত ও চীনের ওপর ১০০% শুল্ক আরোপের আশঙ্কা