Published : 07 Aug 2026, 09:16 AM
‘পাখির চোখে চট্টগ্রাম’—এই কথাটি শুনতে যতটা মধুর, তার চেয়েও বেশি গভীর অর্থ বহন করে। নীল আকাশের নিচে চট্টগ্রাম যেন পাহাড়, নদী আর সমুদ্রের এক অসাধারণ মেলবন্ধনে প্রকৃতিকে মুগ্ধ করেছে। আকাশ পানে তাকালে বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি, কর্ণফুলী নদীর বাঁকানো পথ এবং সবুজ পর্বতমালার চূড়াগুলো একাকার হয়ে চোখে শান্তি এনে দেয়। এই অনন্য ভৌগোলিক বিন্যাস অন্য কোনো শহরে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। শহরের চারপাশের বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি বারবার দেখার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে গ্রাস করে। যখনই প্রবাস জীবনের স্মৃতিগুলো মনে আসে বা বিমান থেকে চট্টগ্রামের মাটির দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়, তখন মনে হয় যেন কল্পনায় জীবন ছিল আরও শান্তিময়। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অভিভাবকহীন, নানা সমস্যা জর্জরিত নগরী। এমনটা হওয়া উচিত ছিল না।
এই মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলে চট্টগ্রাম শহরের নাগরিক সমস্যাগুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে—যা রীতিমতো উদ্বেগজনক। ভয়াবহ জলাবদ্ধতা—ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের জলে আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, হালিশহর, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা ও কুয়াইশ এলাকাগুলো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে ডুবে থাকে। কোথাও জল নামতে এক সপ্তাহও সময় লাগে। ভাঙা রাস্তাঘাট—মুরাদপুর–অক্সিজেন সড়কসহ নগরীর প্রায় ১৯৭ কিলোমিটার পথই গর্তে ভরা; এই মেরামতের জন্য প্রয়োজন ৩৪৮ কোটি টাকা, অথচ বরাদ্দ মাত্র ২২ কোটি। কোন সড়কে কী কাজ হচ্ছে বা কত টাকা খরচ হচ্ছে, তার কোনো স্বচ্ছতা নেই। এর ফলে সাধারণ মানুষ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এবং গাড়ির ক্ষতি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। তীব্র যানজট, আবর্জনার স্তূপ, গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা—এগুলোই এখন দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী। অন্যদিকে, শিল্প ও সেবার ক্ষেত্রেও বড় সংকট বিদ্যমান।
এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণ ও আমদানির সমস্যার কারণে চট্টগ্রামে দৈনিক প্রায় ৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি চলছে। এই জ্বালানি সংকটের ফলে সিইউএফএল সার কারখানাসহ বিভিন্ন ইস্পাত, সিমেন্ট এবং পোশাক কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানির অভাবে শহর ও গ্রামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, জনসংখ্যার চাপ, পাহাড় কাটা, নিম্নমধ্যবিত্তের আবাসন সংকট, দুর্বল নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি—এই সব সমস্যা দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে। সেবা প্রদানেও ধীরগতি; অভিযোগ জানানোর নতুন অ্যাপ চালু থাকা সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে সমাধানের গতি অত্যন্ত কম (এক হাজার অভিযোগের মধ্যে মাত্র ২৬৭টি সমাধান)। এই সমস্ত সমস্যার মাঝেও এক নাগরিকের সরল উপলব্ধি, ‘যায় দিন ভালো’—এটাই যেন বর্তমান বাস্তবতার কঠিনতম সত্য।।
পদত্যাগ চাওয়ার গুজব উড়িয়ে দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান