Published : 07 Aug 2026, 05:16 AM
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অস্ত্রশস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্পগুলো সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অস্ত্রের মজুত ও ঘাটতি নিয়ে গত সপ্তাহে মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে তীব্র আলোচনা হয়। ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার একটি বৈঠকের বিরতিতে এই দুই ব্যক্তির মধ্যে অস্ত্রের অভাব এবং তথ্য গোপন রাখার বিষয়টি নিয়ে কথোপকথন ঘটে। হেগসেথ জানতে চান, কেন তাঁকে এই বিষয়ে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে দুজন ব্যক্তি দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প মনে করেছিলেন যে এই সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। তবে অস্ত্র ঘাটতির দায়ভার এবং প্রেসিডেন্টকে পুরোপুরি অবহিত না করার জন্য তিনি তাঁর ডেপুটি স্টিফেন ফেইনবার্গকে দায়ী করেন হেগসেথের কাছে।
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। জানা গেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ছয় মাস গড়ানোর পর পেন্টাগনে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ইন্টারসেপ্টরের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গত মাসে ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধের পূর্বে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে যে পরিমাণ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম এবং টার্মিনাল হাই অ্যালটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) সিস্টেম ছিল, তার থেকে বর্তমানে অনেক কম অবশিষ্ট রয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, মাত্র কিছু প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা এবং থাড সিস্টেমই বাকি আছে। গত মাসে সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির শুনানিতে হেগসেথ দাবি করেন যে ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রায় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। তিনি এই অর্থায়ন না করার জন্য বাইডেন প্রশাসনকে দায়ী করে কংগ্রেসের কাছে অস্ত্র মজুত পুনর্গঠনসহ অন্যান্য কাজের জন্য অতিরিক্ত ৬৭ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ চেয়েছেন। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট হেগসেথের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন।
তিনি বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’ অন্যদিকে, ট্রাম্পও দাবি করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের কোনো ঘাটতি নেই এবং সব ধরনের অস্ত্র পর্যাপ্ত রয়েছে। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেলও এই প্রতিবেদনকে অস্বীকার করে বলেন, অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণে সেক্রেটারি হেগসেথ কাউকে বিভ্রান্ত করেননি এবং অস্ত্রের মজুতের পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ভুল তথ্য দেওয়া হয়নি। যদিও ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্প ও হেগসেথের মধ্যে জবাবদিহিতার প্রশ্ন উঠে এসেছে, তবুও শুক্রবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে হেগসেথ প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনা করার এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে বিরত রাখার সাহস ট্রাম্পের রয়েছে।।
পদত্যাগ চাওয়ার গুজব উড়িয়ে দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান