Published : 02 Aug 2026, 05:16 AM
মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল পরিস্থিতিতে ইরান সংক্রান্ত বিষয়ে সৌদি আরব এবং ইসরায়েলের মধ্যে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী বার্তা পৌঁছানোর ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চরম সংশয়ে রয়েছেন। গত বুধবার সকালে হোয়াইট হাউসে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরান যুদ্ধের তীব্রতা কমানোর এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া এড়ানোর জন্য সৌদি আরব চায়। অন্যদিকে, এর ঠিক আগের দিন ওভাল অফিসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির পরামর্শ দেন। এই পরপর দুই দিনের বিপরীতমুখী বার্তা ট্রাম্পকে গভীর দ্বিধায় ফেলেছে। যদিও দলের অভ্যন্তরে যুদ্ধ বন্ধের চাপ বাড়ছে, তবুও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় রিপাবলিকানরা উদ্বিগ্ন যে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি আসন্ন নির্বাচনের সময় তাদের ক্ষতি করবে। মার্কিন কর্মকর্তারা যদিও ট্রাম্পের দাবি মেনেছেন, তবুও তারা স্পষ্ট করেছেন যে ইরান আলোচনার চেয়ে হরমুজ প্রণালীতে প্রভাব বজায় রাখা এবং মার্কিন সেনাদের ওপর আক্রমণ চালানোর দিকে বেশি মনোযোগী।
তবে আকাশপথে হামলার সীমাবদ্ধতা ও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকায় ট্রাম্প বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত আছেন। বর্তমানে কূটনৈতিক আলোচনা মূলত হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর স্বল্পমেয়াদী চুক্তির দিকে নিবদ্ধ। সংঘাত আরও বাড়ানোর একাধিক সামরিক পরিকল্পনা ট্রাম্পের সামনে পেশ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। এমনকি প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার আশায় ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেন্ট্রাল কমান্ডের একটি পরিকল্পনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা ধ্বংস করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ ধরে সেখানে ভারী বোমাবর্ষণের কথা বলা হয়েছে। সংঘাত কি আরও বৃহত্তর রূপ নেবে—এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জোর দিয়ে দাবি করেন যে তিনি ইতিমধ্যেই সেই পথে হেঁটেছেন। গত সপ্তাহে ক্যাপিটল হিলে এক শুনানিতে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন স্বীকার করেছেন যে, ট্রাম্প কেবল বিমান হামলার মাধ্যমেই তাঁর পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবেন এমন সম্ভাবনা কম।
তা সত্ত্বেও ট্রাম্পের প্রধান দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ইরানি নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রভাব বৃদ্ধির ফলে ওয়াশিংটন কোন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েল চাপ বাড়াতে বললেও সৌদি আরব স্পষ্ট করেছে যে তারা নিজেদের আত্মরক্ষার বাইরে সংঘাত বাড়াতে আগ্রহী নয়। সৌদির মতে, নেতানিয়াহুই মূলত এই সংঘাতের উস্কানি দিচ্ছেন। এই দুই ভিন্ন অবস্থানের মাঝে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প আগামী দিনে চুক্তি নাকি জোরালো সামরিক পদক্ষেপ—কোন পথে যাবেন, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।।
পদত্যাগ চাওয়ার গুজব উড়িয়ে দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান