Published : 31 Jul 2026, 09:16 PM
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলো পরিদর্শন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। শুক্রবার তিনি আশ্রয়শিবিরগুলোতে চলমান মানবিক সহায়তা এবং সেবামূলক কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এই সময় তিনি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের বর্তমান জীবনযাত্রার পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। সফরের সময় সার্জিও গরের সাথে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে মার্কিন দূতাবাসের এক প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিলেন। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, আশ্রয়শিবিরে পরিচালিত মানবিক সহায়তার অন্যতম প্রধান উৎস হলো যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিনিধিদল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম যাচাই করতে এসেছিলেন। তারা ক্যাম্পের বিভিন্ন সেবাকেন্দ্র ঘুরে দেখেন এবং একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে আশ্রয়শিবিরগুলোর সামগ্রিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।
মিজানুর রহমান আরও বলেন, রোহিঙ্গারা নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহযোগিতা কামনা করেছেন। তারা দ্রুত নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফিরে যেতে চান বলেও জানিয়েছেন। পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদলটি বিকেলে কক্সবাজারে আরআরআরসির কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করে। বৈঠকে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জানতে চান, বর্তমানে নতুন কোনো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে কিনা, বাংলাদেশ থেকে কেউ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করছে কিনা, রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি কেমন এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সম্পর্ক কী। জবাবে কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ১০ জন রোহিঙ্গা সংঘাত, নির্যাতন বা চিকিৎসার প্রয়োজনে বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন। দীর্ঘদিনের প্রত্যাবাসন বন্ধ থাকার কারণে এবং কিছু রোহিঙ্গার অপরাধের কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ১৪ লাখেরও বেশি।
এর মধ্যে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর কয়েক মাসে প্রায় আট লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। গত নয় বছরে কোনো রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়নি; বরং গত দেড় বছরে রাখাইন রাজ্য থেকে নতুন করে প্রায় ১ লক্ষ ৫২ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছেন। স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য বিতরণ এবং নিবন্ধন কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উখিয়ার ক্যাম্প-৪, ক্যাম্প-৬ ও ক্যাম্প-৮ (পশ্চিম) এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সরবরাহ, তথ্য নিবন্ধন এবং এলপিজি বিতরণের কাজ পর্যবেক্ষণ করেন। ক্যাম্প-৬-এর একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিনিধিদল মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, টিকাদান, পুষ্টি, জরুরি চিকিৎসা এবং বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এছাড়াও, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক উচ্চ আমলাতন্ত্রের অর্থায়নে পরিচালিত ডেটা রেজিস্ট্রেশন সেন্টার, নতুন আগত রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া, আইওএম-এর অর্থায়নে এলপিজি বিতরণ এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ই-ভাউচারভিত্তিক খাদ্য বিতরণের কার্যক্রমগুলোও তারা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় ক্যাম্প-৪ এলাকায় প্রায় কয়েকশো রোহিঙ্গা প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি জানান।।
পশ্চিম তীরের শেষ খ্রিস্টান নগরী এখন ইসরায়েলিদের কব্জায়: ধ্বংস ও আতঙ্কের গল্প