Published : 09 Jul 2026, 08:49 AM
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকার কর্মী আইরিন খানকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম স্বাক্ষরিত আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) অনুসারে এই তথ্য জানা গেছে। এই পত্র অনুযায়ী, সরকার আইরিন খানকে সরকারের সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা ও বেতন-ভাতার ভিত্তিতে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেবে। ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার, সুশাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে আইরিন খান অত্যন্ত বিশেষজ্ঞ ও পরিচিত। তার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে গভীর দক্ষতা বহুপাক্ষিক ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে, তিনি বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান কার্যকরভাবে তুলে ধরতে এবং দেশের কূটনৈতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। আইরিন খান ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় এবং হার্ভার্ড ল' স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে তিনি জেনেভার গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে শিক্ষকতা করছেন। ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ছিলেন এই সংস্থার প্রথম নারী, প্রথম এশীয় এবং প্রথম মুসলিম মহাসচিব। তার নেতৃত্বে নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বৈশ্বিক প্রচারাভিযান শুরু করেছিল। এর পূর্বে ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অর্গানাইজেশন (আইডিএলও)-এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকারে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০৬ সালে সিডনি পিস পুরস্কারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মাননা লাভ করেন।।
হরমুজ প্রণালীতে সংঘাত: ইরানের পাল্টা আক্রমণে কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা, যুদ্ধবিরতি কি ভঙ্গ হলো?