Published : 09 Jul 2026, 08:17 AM
অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এক নতুন আর্থিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন ফি এবং পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগের জন্য প্রয়োজনীয় পোস্টস্টাডি ওয়ার্ক ভিসার ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। এই নতুন নিয়মগুলি ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে চলেছে। কিছু ভিসার ক্ষেত্রে ফি ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, আবার কিছু শ্রেণিতে তা ২০০ শতাংশেরও বেশি লাফিয়ে বেড়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্প্রদায়ের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি বলে অভিযোগ করেছেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ফি ২ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে উন্নীত করা হয়েছে।
আসিয়ান (ASEAN) সদস্য দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফি ২ হাজার ৫০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে ধার্য করা হয়েছে। এছাড়াও, ইংরেজি ভাষা শিক্ষা (ELICOS) কোর্সের শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন ফি ২ হাজার ৫০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, টেম্পোরারি গ্র্যাজুয়েট ভিসা সাবক্লাস ৪৮৫-এর আবেদন ফি ৪ হাজার ৬০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৭৫০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে বাড়ানো হয়েছে। এই বর্ধিত ফি-এর ফলে অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন ফি ২ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার, যা যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার তুলনায় অনেক বেশি। তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ফি ২৮৫ শতাংশ এবং পোস্টস্টাডি ওয়ার্ক ভিসার ফি ১৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংস্থাগুলি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার (আইইএএ) প্রধান নির্বাহী ফিল হানিউড মন্তব্য করেছেন যে, এই সিদ্ধান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর জন্য সুবিধা বয়ে আনবে। তিনি আরও বলেন, কোনো পরামর্শ বা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুযোগ না দিয়ে রাতারাতি ভিসা ফি বৃদ্ধি করায় অন্যান্য দেশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণে বাড়তি সুবিধা পাবে। এই পরিবর্তন বৈশ্বিক শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার প্রতি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ হ্রাস করার ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতারা।।