Published : 09 Jul 2026, 07:26 AM
একটি ফুটবল ম্যাচ একটি দলের জন্য কতটা কঠিন হতে পারে? এই ম্যাচে কাগজে-কলমে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ছিল মেক্সিকো। কিন্তু উচ্চতা, তীব্র তাপ, শব্দ দূষণ, ঘুমের অভাব এবং চল্লিশ বছরের পুরনো এক ঐতিহাসিক স্মৃতি—এই সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের জন্য আজকের এই খেলা এক অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে! শুক্রবার যখন টমাস টুখেলের দল মেক্সিকো সিটিতে পৌঁছায়, স্থানীয় জনগণ দু'জনকেই স্বাগত জানায়। এমনকি পুলিশ ব্যারিকেডের মধ্যে সশস্ত্র প্রহরায় হোটেলে পৌঁছাতে হয়েছে ইংল্যান্ড দলকে। অতিথিদের মানসম্মত 'আপ্যায়ন' দেওয়ার জন্য মেক্সিকান সমর্থকরাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগের রাউন্ডের প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর দলকে লাউডস্পিকার ও গাড়ির হর্ন দিয়ে ঘুমাতে দেওয়া হয়নি। এখন সেই একই উদ্বেগ তাড়া করছে ইংল্যান্ডকে। হোটেলের ঠিকানা গোপন রাখার চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয়নি। তাই কোচিং স্টাফ খেলোয়াড়দের হাতে তুলে দিয়েছেন প্রাকৃতিক ঘুমের ওষুধ, হোয়াইট নয়েজ মেশিন, এবং কেউ কেউ নিজেই এনেছেন ইয়ারপ্লাগ। কিন্তু শব্দ তো কেবল একটি সমস্যা। আসল 'বিপজ্জনক' হলো উচ্চতা! মেক্সিকো সিটির গড় উচ্চতা প্রায় সাত হাজার ফুটের বেশি।
এত বেশি উচ্চতায় খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে মানিয়ে নিতে সাধারণত দুই সপ্তাহের মতো সময় লাগে। ইংল্যান্ড পেয়েছে মাত্র দু'দিন। টুখেল নিজেই বলছেন, এই স্বল্প সময়ে মেক্সিকো সিটির এই উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। ঘরের মাঠের দর্শক এবং উচ্চতার সুবিধা নিয়েই হয়তো পুরো টুর্নামেন্টে মেক্সিকো দুর্দান্ত খেলেছে। এই দলের রেকর্ডও অবিশ্বাস্য—আটানব্বই ম্যাচে মাত্র দুটি হার এবং কোনো ম্যাচে গোল হজম করেনি। আজতেকায় মেক্সিকোর রেকর্ডও বিস্ময়কর—৮৯ ম্যাচে মাত্র দুটি পরাজয়। বিশ্বকাপের দশটি ম্যাচের কোনোটিতেই তারা হারেনি এই মাঠে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের আজতেক একটি তিক্ত স্মৃতি রয়েছে, ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ডিয়েগো ম্যারাডনার গোল এবং 'গোল অব দ্য সেঞ্চুরি'র ঘটনা। টুখেলের জন্য সবচেয়ে বড় চিন্তা হলো, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর ইংল্যান্ড ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। যদি হ্যারি কেইন কঙ্গোর বিপক্ষে ত্রাতা হয়ে না আসেন, তবে 'ইটস কামিং হোমের' স্বপ্ন হয়তো ভেঙে যাবে।
এত বাধা সত্ত্বেও কেইনের কথায় আশা জাগে ইংলিশদের—'পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, যে সুযোগই পাই না কেন, আমি মাঠে নামলে গোল করতে পারব।' কেইনের দিকে যেমন তাকিয়ে ইংল্যান্ড, তেমনি মেক্সিকো তাকিয়ে হুলিয়ান কিনোনিয়েসের দিকে। বিশ্বকাপে কলম্বিয়া বংশোদ্ভূত এই মেক্সিকো ফরোয়ার্ড এখন পর্যন্ত করেছেন তিনটি গোল। এই সবের মধ্যে যোগ হয়েছে গুপ্তচরবৃত্তির গুঞ্জন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, কানসাস সিটির ঘাঁটি থেকে মেক্সিকো সিটিতে আসার সময়সূচি পরিবর্তনের পেছনে ছিল প্রতিপক্ষের নজরদারি এড়ানোর চেষ্টা। নাটক এখানেই শেষ নয়। ম্যাচের আগের দিন ফিফা বিবেচনা করেছিল কিক-অফ ছয় ঘণ্টা এগিয়ে আনার প্রস্তাব, কারণ পূর্বাভাস অনুযায়ী রোববার বজ্রঝড়ের ঝুঁকি প্রবল। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশনের আপত্তির কারণে ম্যাচটি নির্ধারিত সময়েই শুরু হওয়ার কথা, যদি শেষ মুহূর্তে ঝড়বৃষ্টি বাধা না দেয়।।
হরমুজ প্রণালীতে সংঘাত: ইরানের পাল্টা আক্রমণে কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা, যুদ্ধবিরতি কি ভঙ্গ হলো?