Published : 09 Jul 2026, 04:28 AM
৯০ মিনিটের খেলা শেষ হওয়ার পরেও উত্তেজনা থামেনি। রেফারি যোগ করা সময়ের জন্য পাঁচ মিনিট সময় যোগ করেন। এই অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে যদি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আরও ৩০ মিনিট খেলা হতো, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত। কিন্তু স্টিভেন ইউস্টাকিও সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে দূরপাল্লার শক্তিশালী শট দিয়ে কানাডাকে গোল এনে দেন এই মিডফিল্ডার। এই শেষ মুহূর্তের গোলটিই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে নকআউটের লড়াইয়ে প্রবেশ করে কানাডাকে। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি ছিল এবারের আসরের রাউন্ড অব থার্টি টুর প্রথম পর্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। একই সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা ও কানাডার জন্য এটি ছিল বিশ্বকাপের প্রথম নকআউট পর্বের প্রবেশদ্বার। উভয় দলই এর আগে একাধিকবার বিশ্বকাপ খেলেলেও প্রথম ধাপ পার করতে পারেনি। গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে আসার পর দুই দলের লক্ষ্য ছিল আরও উচ্চতর সাফল্য অর্জন করা।
ম্যাচের প্রথম ভাগে উভয় দলই রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলেছিল। শুরু থেকেই খেলার নিয়ন্ত্রণ ছিল কানাডার হাতে এবং তাদের আক্রমণাত্মক খেলা চোখে পড়েছিল। প্রথম ভাগে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও এসেছিল, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তিশালী রক্ষণভাগের কারণে একাধিক সুযোগ গোলে পরিণত হয়নি। ৪৪তম মিনিটে ময়জে বমবিতোর হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন অব্রে মদিবা। এরপর তেজন বুকানানের শট গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস ঠেকিয়ে দেন। বিরতির ঠিক আগে রিচি লারিয়াকে বক্সে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় কানাডা পেনালটির জন্য জোরালো আবেদন করলেও ভিএআর পর্যালোচনার পরেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে কোচ জেসি মার্শ মাঠ ছাড়ার সময় রেফারির প্রতি তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। দ্বিতীয় ভাগেও একই চিত্র দেখা যায়। দক্ষিণ আফ্রিকা যেন শুরু থেকেই অতিরিক্ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। নিজেদের অর্ধে অনেক খেলোয়াড় রেখে কানাডার আক্রমণ প্রতিহত করতেই মনোযোগ ছিল তাদের।
এই সময়ে তানি ওলুওয়াসেয়ি একা গোলরক্ষকের সামনে চলে গেলেও উইলিয়ামসকে পরাস্ত করতে পারেননি। জনাথন ডেভিডের প্রচেষ্টাও দারুণ রক্ষণে ব্যর্থ হয়। মাঝপথে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন আলফন্সো ডেভিস, যিনি চোট কাটিয়ে কিছুটা গতি আনলেও ম্যাচের চিত্র বড় পরিবর্তন করতে পারেননি। যখন খেলা অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে অ্যালিস্টার জনস্টনের ক্রস দক্ষিণ আফ্রিকার একজন ডিফেন্ডার হেডে বক্সের বাইরে পাঠিয়ে দেন। ইউস্টাকিও সুযোগ বুঝে বল নামিয়ে নিচু শটে গোল জালে জড়ান। ডাইভ দিয়েও গোলরক্ষক উইলিয়ামস শট আটকাতে পারেননি। এই গোলটি হজম করতে শেষ পর্যন্ত তাঁকে পাঁচবার সেভ করতে হয়েছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় ওঠা কানাডা আগামী ৪ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডস অথবা মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের জায়গা পাকা করবে।।
হরমুজ প্রণালীতে সংঘাত: ইরানের পাল্টা আক্রমণে কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা, যুদ্ধবিরতি কি ভঙ্গ হলো?