Published : 09 Jul 2026, 03:18 AM
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্দিষ্ট দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। ট্রাম্পের দাবি ছিল, ইরানের আটক সম্পদ মুক্তি পেলে তা শুধুমাত্র আমেরিকার কৃষি পণ্যের ক্রয়ে ব্যবহৃত হবে। গালিবফ এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গালিবফ মন্তব্য করেন, 'আমেরিকা মিথ্যা বলছে যে আমাদের মুক্ত করা সম্পদ দিয়ে তারা তাদের কৃষি পণ্য কিনবে।' তিনি আরও যোগ করেন, 'আমরা যে ফসল এখন ঘরে তুলছি, তা আপনাদের (যুক্তরাষ্ট্র) বপন করেছিল—বহু দশক ধরে জমে থাকা অবিশ্বাসের ফল। এই ফসলগুলো অর্গানিক, অফুরন্ত এবং খাঁটি দেশি।' একই পোস্টে গালিবফ ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করে বলেন, ওয়াশিংটন কেবল জিএমও সয়াবিন, প্রতিশ্রুতিভঙ্গ এবং ফাঁপা কথার মাধ্যমে রপ্তানি করে।
সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছিলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা স্মারকের অধীনে প্রাথমিক আর্থিক সুবিধার অংশ হিসেবে পঞ্চাশ কোটি ডলারের মার্কিন পণ্য অন্তর্ভুক্ত হবে। ট্রাম্পের দাবি ছিল, কোনো নগদ অর্থ সরাসরি তেহরানের হাতে যাবে না, বরং সেই অর্থ দিয়ে মার্কিন কৃষকদের কাছ থেকে ভুট্টা ও গম কিনে ইরানের 'খাদ্যসংকট' মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও একই সুরে কথা বলেন। তিনি বলেন, ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্ত হলে তা 'মার্কিন কৃষকদের সমৃদ্ধ করবে এবং ইরানের জনগণের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করবে'। বৃহস্পতিবার বাহরাইনে দেশটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো চুক্তির দাবি করে না যা তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি বা আঞ্চলিক মিত্রদের স্বার্থের পরিপন্থী হবে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যমগুলো মার্কিন প্রশাসনের এই বর্ণনার বিরোধিতা করে। তারা এই সমঝোতার কাঠামোকে কোনো ছাড় নয়, বরং একটি কৌশলগত বিজয় হিসেবে তুলে ধরছে।
ইরানের আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, বাকু সফরের সময় গালিবফ এই সমঝোতা স্মারককে 'যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণা' বলে অভিহিত করেন। তার দাবি, নথিতে এমন কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই যা ইরানকে মার্কিন পণ্য কিনতে বাধ্য করে। সোমবার ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও মন্তব্য করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উদীয়মান এই সমঝোতার আওতায় মুক্ত হওয়া অর্থ কেবল জরুরি বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা চলতে থাকায় চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তিটি গত ১৮ জুন কার্যকর হয়। এই চুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে।।