Published : 09 Jul 2026, 02:33 AM
আবৃত্তিশিল্পী, আবৃত্তি সংগঠন এবং সংস্কৃতিকর্মীদের এক নতুন দিগন্তে একত্রিত করতে 'বাংলাদেশ জাতীয় আবৃত্তি পরিষদ' আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। 'শব্দে জাগরণ কণ্ঠে বাংলাদেশ' এই অনুপ্রেরণামূলক স্লোগানে যাত্রা শুরু করা এই সংগঠনটি শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণ চর্চা, কবিতা আবৃত্তি এবং জাতীয় সংস্কৃতির প্রসারে নিজেদের অঙ্গীকারবদ্ধ করেছে। বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ ঘটায়। এই অনুষ্ঠানে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রমের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় আবৃত্তি পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আবৃত্তিশিল্পী এনামুল হক জুয়েল।
সংগঠনের এক বিজ্ঞপ্তিতে সভাপতি মোহাম্মদ কামরুল আহসান ও সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক যৌথভাবে বলেন, ‘বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে আবৃত্তি এক শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক সংগ্রামে কবিতা ও আবৃত্তি মানুষের চেতনা, সাহস ও মানবিক মূল্যবোধকে নতুন পথে চালিত করতে অপরিহার্য ভূমিকা রেখেছে।’ এই সংগঠনটি শিশু, কিশোর ও তরুণদের জন্য আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, উৎসব এবং নেতৃত্ব বিকাশের কর্মসূচি গ্রহণ করবে। এছাড়াও, জাতীয় শিশু আবৃত্তি একাডেমি, জাতীয় শিশু আবৃত্তি অলিম্পিয়াড, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক আবৃত্তি নেটওয়ার্ক, জাতীয় আবৃত্তি চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ডিজিটাল আবৃত্তি উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে। দেশের প্রবীণ আবৃত্তিশিল্পীদের অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ ও সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ, আজীবন সম্মাননা, ফেলোশিপ, ডিজিটাল আর্কাইভ এবং মেন্টরশিপ কর্মসূচি বাস্তবায়নেরও তারা বদ্ধপরিকর। সংগঠনের নেতারা দেশের সকল আবৃত্তিশিল্পী, আবৃত্তি সংগঠন, কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী, গণমাধ্যম, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সংস্কৃতিপ্রেমী নাগরিকদের এই মহৎ উদ্যোগে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য হলো ইতিহাসের সঠিক ধারা বজায় রাখা এবং ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে কবিতা ও শিল্প-সাহিত্যকে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা। চলচ্চিত্র অভিনেতা হেলাল খান প্রধান অতিথির বক্তব্যে তৃণমূল থেকে শিল্পী, সাহিত্যিক, নাটকের শিল্পী ও গানের শিল্পী তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন এবং সকল স্তরের শিল্পীদের মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতি ও সমাজের সুস্থতা বজায় রাখার জন্য সংস্কৃতিচর্চার কোনো বিকল্প নেই। তিনি কবিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, কবিতা হলো সবচেয়ে সূক্ষ্মতম ও কঠিন শিল্পমাধ্যম। অনুষ্ঠানে প্রকৌশলী জাকির হোসেন, আইনজীবী নাসিম আহমেদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।।
এক বছরের শাসনে পদত্যাগ ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর, রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত