Published : 31 May 2026, 01:21 PM
রাজধানীর ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লা যেন উৎসবে সেজে উঠেছে। পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে, শুক্রবার বিকেলে দর্শনার্থীদের ভিড়ে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে এই প্রাচীন স্থাপত্য। পরিবার, বন্ধু কিংবা আদরের পোষা প্রাণী—সবার পদচারণায় মুখরিত কেল্লার প্রাঙ্গণ। মোগল আমলের নির্মাণশৈলী, উন্মুক্ত পরিবেশ আর সবুজের সমারোহে মুগ্ধ হচ্ছেন আগতরা। কেউ বলছেন, বইয়ের পাতায় লালবাগ কেল্লার কথা পড়লেও, স্বচক্ষে এসে দেখা এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। পুরান ঢাকার চকবাজার থেকে এসেছেন শামীম হোসেন, সাথে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস এবং সন্তানরা—শাহদাত, ফাতিহা ও ফাবিহা। শামীম জানান, ‘আগে সন্তানদের নিয়ে আসা হয়নি। আজ ওদের প্রত্নতত্ত্বের নিদর্শনগুলো দেখাচ্ছি, খোলামেলা পরিবেশে একটু আনন্দ করতে নিয়ে এসেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাচ্চারা হয়তো পুরাকীর্তির ইতিহাস বুঝবে না, তবে সুন্দর কিছু দেখলে, দৌড়াদৌড়ি করলে, সবুজ ঘাসে খেলা করলে ওদের ভালো লাগবে।
ঢাকায় এমন খোলামেলা জায়গা তো আর নেই!’ অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজিম তার ছোট ভাই সাবিরকে কোলে নিয়ে ঘুরে দেখছিল লালবাগ কেল্লা। তারা মালিবাগে থাকে। সাথে বাবা-মা ও আরেক ভাইও এসেছে। সাজিম জানায়, বইয়ে লালবাগ কেল্লার ইতিহাস পড়েছে, কিন্তু সামনাসামনি প্রথমবার দেখছে। সাজিমের বাবা শামীম রেজা বলেন, ‘ঢাকার মতো জনবহুল শহরে এমন খোলামেলা জায়গা সত্যিই স্বস্তিদায়ক। পরিবার নিয়ে পুরোনো স্থাপত্য দেখলাম, নির্মল পরিবেশ উপভোগ করলাম।’ শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য খোলামেলা পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাই ঈদের ছুটিতে ওদের ঘুরতে নিয়ে এসেছি। ইতিহাস পড়তে গেলে এই অভিজ্ঞতা ওদের কাজে দেবে।’ ঢাকার কেরানীগঞ্জের কামরাঙ্গীরচর থেকে এসেছেন ব্যবসায়ী শফিক আহমেদ, সাথে স্ত্রী মিহির ইসলাম এবং তাদের আদরের পোষা বিড়াল ‘এলেক্স’।
শফিক বলেন, ‘ঈদ উদযাপনটা আরও আনন্দময় করতে আমরা খোলামেলা পরিবেশে ঘুরতে এসেছি। আজকের আবহাওয়াটাও চমৎকার। বিশেষ করে, আমার পোষা বিড়াল এলেক্সের জন্য এই আসা। সারাক্ষণ বাসায় থাকলে ও বিরক্ত হয়ে যায়।’ গতকাল বৃহস্পতিবার ঈদের সকাল থেকেই লালবাগ কেল্লায় দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেন, এবং বিকেলের দিকে ভিড় আরও বাড়তে থাকে বলে জানান সেখানে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা হামিদুর রহমান। সেই ভিড় আজও অব্যাহত রয়েছে।।
ইরান চুক্তি: решающий মুহূর্ত, ট্রাম্পের ‘সিচুয়েশন রুমে’ গভীর আলোচনা