Published : 31 May 2026, 08:15 PM
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য পরমাণু চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। শুক্রবার (২৯ মে) নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক বিস্তারিত বার্তায় ট্রাম্প এই বৈঠকের খবর জানান। তিনি লিখেছেন, “একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার আগে আমি সিচুয়েশন রুমে আলোচনা করছি।” পোস্টে ট্রাম্প চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ১. পরমাণু অস্ত্রমুক্তির প্রতিশ্রুতি: ইরানকে অবশ্যই দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করতে হবে যে, তারা কোনো প্রকার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।
২. হরমুজ প্রণালীর অবাধ চলাচল: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে এবং সেখানে কোনো ধরনের বাধা বা টোল আরোপ করা যাবে না। ৩. নৌ-মাইন অপসারণ: হরমুজের জলসীমায় ইরান যে সকল মাইন পেতে রেখেছে, সেগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। ৪. অবরোধ প্রত্যাহার: চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেবে, যার ফলে আটকে থাকা জাহাজগুলো পুনরায় চলাচল করতে পারবে। ৫. ইউরেনিয়ামের নিষ্পত্তি: ইরানের কাছে থাকা উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ যুক্তরাষ্ট্র শনাক্ত করবে এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তা ধ্বংস করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রাম্প জব্দকৃত অর্থ ফেরত দেওয়া নিয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো আর্থিক লেনদেন হবে না।
’ এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, চুক্তি সম্পাদনের আগে ইরান কোনো আর্থিক সুবিধা পাবে না। হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুম’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে সুরক্ষিত এবং অত্যাধুনিক গোয়েন্দা কেন্দ্র। এটি একটি কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করে, যেখানে প্রেসিডেন্ট এবং তার জাতীয় নিরাপত্তা দল গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।।