Published : 23 May 2026, 01:11 AM
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনীতি, জ্বালানি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উড়োজাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একটি লাভজনক অংশীদারিত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ (এআরটি) নিয়ে তিনি বলেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য মার্কিন বাজারে শুল্ক সুবিধা পাওয়ার পথ সুগম করবে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ভারসাম্য রক্ষা করবে। তিনি একে একটি বাস্তবসম্মত কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন, যেখানে উভয় দেশই নিজেদের জনগণের কল্যাণের পাশাপাশি পারস্পরিক লাভের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে পারবে। উড়োজাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনার সময় ক্রিস্টেনসেন বোয়িং এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মধ্যে হওয়া চুক্তিটির কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এই অংশীদারিত্ব উড়োজাহাজ সরবরাহ, পাইলটদের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতকে আধুনিকীকরণে সহায়তা করবে। রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে সম্প্রতি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিটি বাংলাদেশের জ্বালানি প্রকল্প, শিল্প উন্নয়ন এবং জ্বালানির উৎসগুলোকে বৈচিত্র্যময় করতে সহায়ক হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্র সবসময় নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবে থাকবে।’ এছাড়াও, হামের টিকা প্রদান কর্মসূচি এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের মতো বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে ক্রিস্টেনসেন বলেন, ১৭৭৬ সালের স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রের মূলমন্ত্র – স্বাধীনতা, স্বশাসন ও গণতন্ত্র – আজও বিশ্বজুড়ে মানুষকে উৎসাহিত করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘একটিমাত্র কাগজ এবং ৫৬টি স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমেরিকা মানব ইতিহাসের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।’ যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাষ্ট্রদূত বেশ কয়েকটি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এর মধ্যে রয়েছে গুলশান ও বনানীতে লাল, সাদা ও নীল রঙের থিমে সজ্জিত ৫০টি রিকশা চলাচল, সেন্টারপয়েন্ট মলে ‘আমেরিকান ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম’ স্থাপন এবং জুলাই মাসে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটে ‘আমেরিকা উইক’ নামক একটি রোড শো আয়োজন। ক্রিস্টেনসেন বলেন, এই সকল কার্যক্রম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতীক এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার ব্যাপারে ওয়াশিংটনের অঙ্গীকারের প্রমাণ।।
ইরানের সাথে চুক্তি এখন হাতের মুঠোয়, না হলে বিপদ!: ট্রাম্পের কঠোর বার্তা