Published : 22 May 2026, 05:55 PM
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন অর্থনৈতিক, জ্বালানি ও নিরাপত্তা খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়াতে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিমান চলাচল এবং জ্বালানি খাতে পারস্পরিক কল্যাণে অংশীদারিত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ (এআরটি) বাংলাদেশের জন্য মার্কিন বাজারে শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত করবে এবং দুই দেশের মধ্যে সুষম বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক স্থাপন করবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই চুক্তিটি একটি বাস্তবসম্মত কূটনৈতিক পদক্ষেপ, যা উভয় দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং পারস্পরিক লাভের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করবে। বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতার বিষয়ে ক্রিস্টেনসেন বোয়িং এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মধ্যে হওয়া উড়োজাহাজ চুক্তির কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এই অংশীদারিত্ব উড়োজাহাজ সরবরাহ, পাইলটদের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের আধুনিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও, রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে সম্প্রতি হওয়া সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের জ্বালানি প্রকল্প, শিল্প উন্নয়ন এবং জ্বালানির উৎসগুলোকে আরও বৈচিত্র্যময় করতে সহায়ক হবে। রাষ্ট্রদূত দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্র সবসময় নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবে থাকবে।’ স্বাস্থ্যখাতে টিকাদান কর্মসূচি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে বলেও তিনি জানান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে ক্রিস্টেনসেন বলেন, ১৭৭৬ সালের স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রের মূলমন্ত্র – স্বাধীনতা, স্বশাসন ও গণতন্ত্র – আজও বিশ্বজুড়ে মানুষকে উৎসাহিত করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘একটিমাত্র ঘোষণাপত্র এবং ৫৬টি স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমেরিকা মানব ইতিহাসের এক নতুন যাত্রা শুরু করেছিল।’ যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাষ্ট্রদূত বেশ কিছু জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এর মধ্যে রয়েছে গুলশান ও বনানীতে লাল, সাদা ও নীল রঙের থিমে সজ্জিত ৫০টি রিকশা চলাচল, সেন্টারপয়েন্ট মলে ‘আমেরিকান ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম’ স্থাপন এবং জুলাই মাসে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটে ‘আমেরিকা উইক’ নামক রোড শো আয়োজন। ক্রিস্টেনসেন বলেন, এই সকল কার্যক্রম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতীক এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার ব্যাপারে ওয়াশিংটনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।।
ইরানের সাথে চুক্তি এখন হাতের মুঠোয়, না হলে বিপদ!: ট্রাম্পের কঠোর বার্তা