Published : 19 May 2026, 07:39 PM
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অভিনব কায়দায় জেট ফুয়েল মজুত করার একটি গোপন আস্তানা খুঁজে বের করেছে কোস্টগার্ড। সুইমিং পুলের মতো করে মাটি খুঁড়ে তৈরি করা হয়েছিল বিশাল গর্ত, যেখানে জেট ফুয়েল জমা করা হচ্ছিল। এছাড়াও, আশেপাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা ছিল ডিজেল ও অকটেনের ড্রাম। বিমানবন্দরগামী একটি ট্যাংকলরি থেকে এই জ্বালানি তেল অবৈধভাবে নিয়ে আসা হয়েছিল। কোস্টগার্ডের সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। গতকাল সোমবার গভীর রাতে পতেঙ্গা থানার ভিআইপি রোডের কাছে এই অভিযানটি চালানো হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে কোস্টগার্ডের সিগন্যাল কমিউনিকেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট হাসিব-উল-ইসলাম অভিযানের বিস্তারিত জানান। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলমও এ বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পদ্মা অয়েল পিএলসির ডিপো থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে জেট ফুয়েল নিয়ে যাচ্ছিল একটি ট্যাংকলরি। কিন্তু সেটি গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই চোরাকারবারিদের হাতে চলে যায়।
তারা সেখানে সুইমিং পুলের মতো গর্ত তৈরি করে জেট ফুয়েল সংরক্ষণ করছিল। পাশাপাশি, বিভিন্ন ড্রামে ডিজেল ও অকটেনও মজুত করা হয়েছিল। অভিযানে ৭ হাজার লিটার জেট ফুয়েল, ৬ হাজার লিটার ডিজেল, ১ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন এবং তেল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। জব্দ করা তেলের আনুমানিক বাজারমূল্য ২৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানিসংকটের সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র যাতে অবৈধভাবে তেল মজুত করতে না পারে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত অভিযান চলছে। অন্যদিকে, এর কয়েক ঘণ্টা পর গতকাল রাত ১টার দিকে ইপিজেড থানার আকমল আলী জলকপাট এলাকায় আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি ঘাট থেকে অবৈধভাবে খালাস করা প্রায় পাঁচ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়। কোস্টগার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, জব্দ করা ভোজ্যতেলের বাজারমূল্য প্রায় ৯ লাখ টাকা। তবে, দুটি অভিযানের ক্ষেত্রেই চোরাকারবারিরা কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। ফলে, কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
জেট ফুয়েল চুরির চেষ্টার ঘটনায় পদ্মা অয়েল পিএলসি ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন যৌথভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একইসঙ্গে, চারজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপক সোহেল ইদ্রিস, চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা মিল্টন রায়, কর্মী মো. ইদ্রিস এবং ট্যাংকলরির চালক মো. জসিম উদ্দিন। পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পদ্মা অয়েল ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) পৃথকভাবে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, জ্বালানি ও ভোজ্যতেল চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালানো হবে।।
ইরানের সাথে চুক্তি এখন হাতের মুঠোয়, না হলে বিপদ!: ট্রাম্পের কঠোর বার্তা