Published : 12 May 2026, 04:08 PM
দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে ঘটে যাওয়া ব্যাপক দুর্নীতি, তহবিল তছরূপ ও অবৈধ অর্থ স্থানান্তরের সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ‘ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশ’ নামের আইনজীবীদের একটি সংগঠন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেছে। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকে একটি সুসংগঠিত চক্রের মাধ্যমে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলস্বরূপ সাধারণ আমানতকারীরা চরম আর্থিক কষ্টের শিকার হচ্ছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা গভীর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকরা তাদের জমানো টাকা তুলতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কেউ সামান্য কিছু টাকা পাচ্ছেন, আবার অনেকে ব্যাংক থেকে কোনো টাকাই পাচ্ছেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এমনও ঘটনা ঘটেছে, একজন ক্যান্সার রোগী ভারতে চিকিৎসার জন্য যেতে চেয়েও নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে দেড় কোটি টাকা তুলতে পারেননি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’ আইনজীবীরা জানান, গত ২৮ এপ্রিল তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।
তবে তাদের স্মারকলিপি গভর্নরের কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে ব্যাংকের অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচার করেছে। তারা এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশের চিফ কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী সরকারের ছত্রছায়ায় ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দখল করে নেয়। এরপর তারা ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করে দেয়।’ তিনি জানান, ‘প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকা ৯টি বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে। এই অর্থ ফেরত এনে আমানতকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।’ এছাড়াও, তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে নিয়মবহির্ভূতভাবে হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তাদের এই নিয়োগ বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। সংগঠনটির নেতারা সম্প্রতি পাশ হওয়া ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন’-এর সমালোচনা করে বলেন, এই আইনের মাধ্যমে অতীতের ব্যাংক খাতে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তারা এই আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিলের দাবি জানান। বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকর করার জন্য একটি মহল দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা চান, ইসলামী ব্যাংকিং খাত আগের মতো স্বাভাবিক হোক, আমানতকারীরা যেন নির্বিঘ্নে টাকা জমা ও উত্তোলন করতে পারেন এবং বিনিয়োগ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে। স্মারকলিপিতে ব্যাংক লুটপাটের বিচার, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।।
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাক্তন মেয়র স্বীকার করলেন, চীনের হয়ে কাজ করতেন!