Published : 10 May 2026, 06:08 AM
উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনকে যদি কোনো বিদেশি শক্তি আঘাত করে বা তিনি অক্ষম হয়ে পড়েন, তাহলে উত্তর কোরিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরমাণু হামলা চালাবে। দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২২শে মার্চ পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত ১৫তম সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির প্রথম অধিবেশনে এই সাংবিধানিক সংশোধনী গৃহীত হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের এই পরিবর্তনের বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, কিম জং উনই দেশটির পরমাণু অস্ত্রের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক থাকবেন। তবে, তার নেতৃত্বকে আক্রমণ করা হলে তার জবাবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এই নতুন নীতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নীতি আইনের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘যদি শত্রুপক্ষের হামলায় রাষ্ট্রীয় পরমাণু বাহিনীর কমান্ড ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরমাণু হামলা চালানো হবে।’ কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা নিহত হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে উত্তর কোরিয়া এই পদক্ষেপ নিয়েছে। কুকমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আন্দ্রেই ল্যাঙ্কভ মনে করেন, এই নীতি আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল, তবে এখন সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে এর গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ইরানের ঘটনা উত্তর কোরিয়ার জন্য একটি সতর্কবার্তা ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘মাথাশ্ছেদ’ কৌশল দেখে তারা বুঝতে পেরেছে, কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে একটি দেশের নেতৃত্বকে নির্মূল করা যায়। বিষয়টি তাদের আতঙ্কিত করেছে।’ ইরানের তুলনায় উত্তর কোরিয়া বিশ্বের অন্যতম বিচ্ছিন্ন দেশ। সেখানে যেকোনো ধরনের গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো অত্যন্ত কঠিন। বিদেশি কূটনীতিক, ত্রাণকর্মী বা ব্যবসায়ীদের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েল যেভাবে হ্যাক করা ট্র্যাফিক ক্যামেরার মাধ্যমে ইরানি নেতাদের ওপর নজর রেখেছিল, পিয়ংইয়ংয়ে তা সম্ভব নয়। কারণ সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা সীমিত এবং ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। কিম জং উন সবসময় কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে থাকেন এবং সাধারণত বিমান এড়িয়ে সাঁজোয়া ট্রেন ব্যবহার করেন।
অধ্যাপক ল্যাঙ্কভ বলেন, ‘স্যাটেলাইট প্রযুক্তি তাদের প্রধান ভয়। সংঘাতের শুরুতে নেতৃত্বকে সরিয়ে দিতে পারলে তা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে।’ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া এ বছর দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তের কাছে নতুন দূরপাল্লার কামান ব্যবস্থা মোতায়েন করার পরিকল্পনা করছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম সম্প্রতি একটি নতুন ধরনের ১৫৫ মিলিমিটার সেলফ-প্রোপেলড গান-হাউইটজার উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। এই কামানটি ৩৭ মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের অবস্থান সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৫ মাইলের মধ্যে। উত্তর কোরিয়া মনে করছে, এই নতুন কামান ব্যবস্থা তাদের সেনাবাহিনীকে স্থলযুদ্ধে বড় ধরনের সুবিধা দেবে।।
হরমুজের পথে যুক্তরাজ্যের যুদ্ধজাহাজ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে নতুন পদক্ষেপ