Published : 12 May 2026, 02:07 PM
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানায় দায়ের হওয়া দুটি মামলায় জামিন পেয়েছেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই জামিনের ফলে খায়রুল হকের মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই। আদালতে তাঁর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু ও অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এর আগে, গত ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগ জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি এবং দুদকের দায়ের করা ৫টি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে আদালত এই আদেশ দেন। গত ৮ মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল মঞ্জুর করে খায়রুল হককে চারটি মামলায় জামিন দেন। পরবর্তীতে, ১১ মার্চ দুদকের মামলায়ও তিনি জামিন লাভ করেন।
এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে, নিম্ন আদালতে আরও দুটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আজ সেই দুটি মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন। গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে পুলিশ খায়রুল হককে আটক করে। এরপর, জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। খায়রুল হকের বিরুদ্ধে এই মামলা ছাড়াও আরও চারটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগ এনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন গত ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় দায়ের করেন। ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় আরেকটি মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির প্রাক্তন সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া। একই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা। এর আগে, ৪ আগস্ট প্লট জালিয়াতির অভিযোগে দুদকও একটি মামলা দায়ের করে।
এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ৫টি মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন। ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর খায়রুল হক দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর নিয়োগ কার্যকর হয়। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি তিনবার আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।।
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাক্তন মেয়র স্বীকার করলেন, চীনের হয়ে কাজ করতেন!