Published : 11 May 2026, 02:08 PM
কোনো হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ল্যাবরেটরিতে আর অনাগত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় জানা যাবে না। সম্প্রতি হাইকোর্ট এই বিষয়ে দেওয়া রায়ের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। সোমবার (১১ মে) এই রায়টি প্রকাশ করা হয়। এর আগে, ২০২৪ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি, বিচারপতি নাইমা হায়দার ও কাজী জিনাত হক সমন্বিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন। আদালতে রিটের পক্ষে আইনজীবী ইশরাত হাসান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তীর্থ সলিল রায়। রায় ঘোষণার পর আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, এখন থেকে কোনোভাবেই গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। অর্থাৎ, সন্তান জন্ম নেওয়ার আগে ছেলে না মেয়ে, তা জানার আর কোনো সুযোগ নেই।
এই রিটটি বহাল থাকবে এবং রায় অমান্য করা হলে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৬শে জানুয়ারি এই রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়েছিল। একই বছরের ৩রা ফেব্রুয়ারি, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই বিষয়ে রুল জারি করেন। রুলে প্রশ্ন করা হয়, গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং এই বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন কেন করা হবে না। স্বাস্থ্য সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সাত বিবাদীকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল। রিট আবেদনের সময় আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, ভারতে এই বিষয়ে আইন করে গর্ভজাত সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গর্ভের শিশুর লিঙ্গ জানার কারণে অনেক মা মানসিক চাপে পড়েন, এমনকি পারিবারিক চাপে গর্ভপাতের ঘটনাও ঘটে। পরে, ইউএনএফপিএ, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ‘ন্যাশনাল গাইডলাইন ফর প্রিভেনশন অব সন প্রিফারেন্স অ্যান্ড দ্য রিস্ক অব জেন্ডার বায়াসড সেক্স সিলেকশন’ শীর্ষক একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে।
এই নীতিমালাটি বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর। এছাড়াও, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে রাখা হয়েছে। নীতিমালাটি হলফনামার মাধ্যমে হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। ইশরাত হাসান বলেন, সরকার কোনো আপত্তি ছাড়াই এই বিষয়টি গ্রহণ করেছে। কারণ, এই ধরনের তথ্য জানার ফলে মায়েরা মানসিক চাপে পড়তে পারেন, যা মা ও অনাগত সন্তান উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। তিনি আরও বলেন, এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও সন্তান জন্মের আগে ছেলে না মেয়ে, তা জানানো বন্ধ হবে। এর ফলে সুস্থ সন্তান জন্ম নিশ্চিত করার পাশাপাশি কন্যাসন্তানকে কেন্দ্র করে মায়েদের ওপর নির্যাতন ও গর্ভপাতের ঝুঁকিও কমে আসবে।।
সীমান্ত সুরক্ষায় নতুন পদক্ষেপ: পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর করছে