Published : 09 May 2026, 09:06 PM
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের এক তরুণ, মো. রিয়াদ রশিদ (২৮), ইউক্রেনে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে মারা গেছেন। তাঁর এক বন্ধু, যিনি রুশ সেনাবাহিনীতে একই ঘাঁটিতে ছিলেন, এই খবরটি জানান। রিয়াদ রশিদ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নিহত রিয়াদের বন্ধু লিমন দত্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মৃত্যুর খবরটি জানান। নরসিংদীর বাসিন্দা লিমন দত্ত রাশিয়ায় রিয়াদের সাথে একই সেনা ঘাঁটিতে ছিলেন।রিয়াদের চাচাতো ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, ২ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি ও এক নাইজেরিয়ান সৈন্য নিহত হন। এই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হন। হামলায় লিমন দত্তের একটি পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। লিমন গতকাল রিয়াদ রশিদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রিয়াদ পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে চতুর্থ। তিনি ২০২৪ সালের অক্টোবরে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় যান। গত ৭ এপ্রিল রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে রিয়াদসহ আরও কয়েকজন বাংলাদেশি যোগ দেন। তাঁদের ব্যাচ নম্বর ছিল ৭৩৫।জহিরুল ইসলাম আরও জানান, ২৮ এপ্রিল রিয়াদ রশিদের সাথে পরিবারের শেষবার কথা হয়। এখন পর্যন্ত রিয়াদ রশিদের লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি, ফলে পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে।রিয়াদ রশিদের বাবা, উপজেলার জাফরাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুর রশিদ, কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, “সেনাবাহিনীতে যোগদানের কথা রিয়াদ আমাকে জানায়নি। জানলে আমি কখনোই তাকে অনুমতি দিতাম না। ছেলের লাশও খুঁজে পাচ্ছি না। শুনেছি ড্রোন হামলায় সে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
একজন বাবা হিসেবে এই কষ্ট সহ্য করা আমার পক্ষে কঠিন।” জাফরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, “রিয়াদ রশিদ আমাদের এলাকার একজন ছোট ভাই ছিল। খবরটি জানার পর আমি তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলাম। পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকে মুহ্যমান। এমন পরিস্থিতিতে তাদের সান্ত্বনা দেওয়া কঠিন। সরকারের উচিত এই পরিবারকে সহায়তা করা।”করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির জানান, পুলিশ খবর পেয়ে নিহত রিয়াদ রশিদের বাড়িতে গিয়েছিল এবং পরিবারের কাছ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।।