Published : 07 May 2026, 05:09 PM
দেশের অন্যতম বেসরকারি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ১ হাজার কোটি টাকার পরিবেশ-বান্ধব বা ‘সবুজ’ বন্ড বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই বন্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন টেকসই উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে। গতকাল বুধবার ব্যাংকটির ৫৮৪তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ব্যাংক এশিয়ার এই বন্ডটি রূপান্তরযোগ্য নয়, অর্থাৎ এটি শেয়ারে পরিবর্তন করা যাবে না এবং এর বিপরীতে কোনো জামানতও রাখা হবে না। সাত বছর মেয়াদী এই বন্ডের মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারীরা তাদের সম্পূর্ণ বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পাবেন। এই বন্ডের মুনাফার হার ফ্লোটিং বা পরিবর্তনশীল হবে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যাসেল-৩ চুক্তির শর্তানুযায়ী, ব্যাংকের টিয়ার-২ রেগুলেটরি ক্যাপিটাল বা সম্পূরক মূলধন বৃদ্ধি করার জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও, সংগৃহীত অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবেশ-বান্ধব এবং টেকসই বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে।
তবে, এই বন্ড ইস্যু করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে বাজারে আনা হবে।এদিকে, ব্যাংক এশিয়া তাদের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ, ২০২৬) নিরীক্ষা বহির্ভূত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য নির্ধারিত বোর্ড সভার তারিখ পরিবর্তন করেছে। সভাটি ১০ মের পরিবর্তে ১২ মে বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসের আয় এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয় চূড়ান্ত করা হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি তাদের লভ্যাংশ এবং সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে জনতা ইন্স্যুরেন্স তাদের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) লিন্ডে বিডি, আইডিএলসি এবং ইউসিবির মুনাফায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, জনতা ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের জন্য সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। একই সাথে, কোম্পানিটি তাদের চলতি ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) নিরীক্ষা বহির্ভূত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৯ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৬ পয়সা।
বহুজাতিক কোম্পানি লিন্ডে বাংলাদেশের মুনাফায়ও চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে ৭ টাকা ২২ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এটি ছিল ৫ টাকা ২৯ পয়সা। কোম্পানিটি জানিয়েছে, বিক্রি বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় কমার কারণে তাদের মুনাফা বেড়েছে। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২১৭ টাকা ৫৩ পয়সায়।আর্থিক খাতের কোম্পানি আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মুনাফায়ও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৪৩ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ১৭ পয়সা। মূলত ঋণ এবং অগ্রিম থেকে নগদ প্রবাহ বাড়ার কারণে কোম্পানিটির মুনাফায় এই প্রবৃদ্ধি এসেছে।।
ভারতবর্ষের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা: পরমাণু শক্তিধর দেশের তালিকায় আরও এক ধাপ এগিয়ে?