Published : 28 Mar 2026, 09:07 AM
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সম্প্রতি সংঘটিত অপরাধগুলো শুধু উদ্বেগের কারণ নয়, জননিরাপত্তার জন্য রীতিমতো বিপদসংকেত। জনবহুল স্থানে নিখুঁত নিশানায় গুলি চালানো, পুলিশের পাহারায় থাকা ব্যবসায়ীর বাড়িতে প্রকাশ্য গুলিবর্ষণ, অথবা চলন্ত গাড়িতে একের পর এক গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড—এসব ঘটনা প্রমাণ করে অপরাধীরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, সাধারণ অস্ত্রের বদলে তারা সাবমেশিনগান (এসএমজি) ও চায়নিজ রাইফেলের মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে বিদেশে পালিয়ে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর প্রশিক্ষিত ‘আততায়ীর দল’। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৫০ জন প্রশিক্ষিত আততায়ী চট্টগ্রাম শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজে তাদের অস্ত্র চালনার দক্ষতা ও ঠান্ডা মাথায় আক্রমণ করে পালিয়ে যাওয়ার কৌশল দেখে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত যে তারা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
প্রশ্ন হলো, দেশের অভ্যন্তরে রাউজান বা রাঙ্গুনিয়ার মতো দুর্গম এলাকায় এই বিশাল দল কীভাবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে? প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে শহরে ঢুকছে এসব ভারী আগ্নেয়াস্ত্র? চট্টগ্রামের এই ‘আততায়ীর সংস্কৃতি’ মূলত চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের লড়াইকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি করা, অথবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ভাড়াটে খুনি ব্যবহার করা এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা। অপরাধীরা এ, বি ও সি—এভাবে ভাগ হয়ে যেভাবে সুসংগঠিতভাবে অপরাধ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, তা কোনো সাধারণ গ্যাং নয়, বরং একটি সমান্তরাল মাফিয়া শাসনব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়। দুঃখজনক হলেও সত্যি, অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি করলেও পুলিশ এখনো মূল হোতা বা অস্ত্রের উৎসের সন্ধান পায়নি। বিদেশে বসে কেউ কলকাঠি নাড়ছে, আর তার সহযোগীরা দেশে একের পর এক খুন করে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে—এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। শুধু ‘তদন্ত চলছে’ কিংবা ‘চেষ্টা চলছে’—এ ধরনের গতানুগতিক কথা বলে সাধারণ মানুষের আতঙ্ক দূর করা সম্ভব নয়।
আমাদের মনে হয়, চট্টগ্রামের এই অস্ত্রবাজি বন্ধ করতে হলে শুধু ‘ছোট মাছ’ ধরে লাভ নেই। প্রথমত, অত্যাধুনিক অস্ত্রের উৎস ও পাচারকারী চক্রকে যে কোনো মূল্যে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের যে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, সেখানে সাঁড়াশি অভিযান চালাতে হবে। তৃতীয়ত, বিদেশে পালিয়ে থাকা অপরাধীদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। আমরা আশা করি, প্রশাসন আর কোনো কালক্ষেপণ না করে চট্টগ্রামের এই অদৃশ্য মারণাস্ত্র ও প্রশিক্ষিত আততায়ীদের নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।।
ইস্তফা নয়, বরং বরখাস্ত করুক! মমতার হুঙ্কার, 'কালো দিন' হিসেবে চিহ্নিত হোক সেই মুহূর্ত