Published : 18 Jul 2026, 12:16 PM
আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর লিওনেল মেসি ২০০৭ সালে শিশু লামিনে ইয়ামালকে গোসল করানোর সেই ভাইরাল মুহূর্তের ছবিটিকে 'অবিশ্বাস্য' বলে আখ্যা দিয়েছেন। একই সাথে, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে স্পেনের এই তরুণ উইঙ্গারকে তিনি প্রশংসা করেছেন। মেসি বলেন, 'সেই ছবিটি সত্যিই অবিশ্বাস্য। তখন সে ছিল ছোট, আর আমি তার সঙ্গে একটি স্মৃতিময় ছবি তুলেছিলাম। আজ আমরা দুজনেই একসাথে বিশ্বকাপ খেলছি—এই দৃশ্যটা কল্পনারও অতীত।' এই ছবিটি ২০০৭ সালে বার্সেলোনার মাঠে স্থানীয় সংবাদপত্র স্পোর্ত ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য তোলা হয়েছিল। এই ছবিটির আলোকচিত্র ছিল ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার জোয়ান মনফোর্তের। ২০২৪ সালে মনফোর্ত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছিলেন, 'আমরা ইউনিসেফের সহযোগিতায় এই ক্যালেন্ডারটি তৈরি করেছিলাম। ইউনিসেফ তখন মাতারোর রোকা ফোন্ডা এলাকায়, যেখানে লামিনের পরিবার বাস করত, সেখানে একটি লটারির আয়োজন করা হয়। বিজয়ীরা বার্সেলোনার এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পেত। লামিনের পরিবার সেই লটারিতে জয়ী হয়।' এবার সেই গল্পের চূড়ান্ত পরিণতি হলো বিশ্বকাপের ফাইনালে।
১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথমবারের মতো ৩৯ বছর বয়সী মেসির মুখোমুখি হতে চলেছেন। নিউইয়র্কে ফিফার ফ্যানাটিকস ফেস্টে মেসি বলেন, 'এই মুহূর্তে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আমি তার জন্য শুভকামনা জানাই, কারণ তার সাফল্য বার্সেলোনারও সাফল্য। তবে আমরা চাই সে নিজের সেরা খেলাটি উপভোগ করুক। স্পেন শুধু তার জন্যই নয়, পুরো দলটাই অসাধারণ। আমাদের নিজেদের অস্ত্র আছে।' তিনি আরও যোগ করেন, 'সে এক অসাধারণ প্রতিভা, বিশ্ব ফুটবলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার সামনে পুরো ক্যারিয়ার বাকি। আমি তার মঙ্গল কামনা করি। তবে এবার যেন সে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারে, সেই জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।' আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ত মন্তব্য করেন, ফাইনালকে ঘিরে এই ছবি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, 'ছবিটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।
আর ফাইনাল যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ায় আগ্রহ আরও বেড়েছে। এখন মেসি ও ইয়ামালের এই ফাইনাল গল্পটি যেকোনো সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়েও বেশি সুন্দর।' স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনোও ছবিটি দেখে হতবাক হন। তিনি বলেন, 'প্রথমবার ছবিটি দেখে আমার মনে হয়েছিল এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি, সত্যি নয়।' মেরিনো মনে করেন, 'ফুটবলের ইতিহাসের দুই সেরা খেলোয়াড়ের একজন এবং ভবিষ্যতে হয়তো ইয়ামালও সেই স্তরে পৌঁছাবে—এমন দুজনের একই ছবিতে থাকা সত্যিই বিস্ময়কর। আশা করি, ফাইনাল ম্যাচে দুজনেই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেবে এবং দর্শকরা এক দুর্দান্ত খেলা উপভোগ করবে।' এই টুর্নামেন্টে মেসি ২০১৪, ২০২২ ও ২০২৬—এই তিনবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলছেন এবং ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্টের রেকর্ড রয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট দৌড়ে তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে। টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে কাতারে নির্ধারিত ফাইনাল ম্যাচটি বাতিল হলেও, এই ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে এক নতুন আবেগ সৃষ্টি করেছে।।
বিশ্বকাপ বিজয়ীদের জন্য ফিফার বিশেষ উপহার: এবার হাতে আসবে 'চ্যাম্পিয়নশিপ আংটি'