Published : 18 Jan 2026, 07:08 PM
মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে অথবা মস্তিষ্কের কোষগুলো পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পেলে, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই অবস্থাকেই স্ট্রোক বলা হয়। স্ট্রোক সাধারণত বয়স্কদের মধ্যে দেখা গেলেও, শিশুরা এর শিকার হতে পারে। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় প্রতি একলাখ শিশুর মধ্যে পাঁচজন স্ট্রোকের ঝুঁকিতে রয়েছে। গর্ভাবস্থায় বা জন্মের সময় শিশুর স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে, যা পরবর্তীতে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত হওয়ার একটি কারণ হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের স্ট্রোকের লক্ষণগুলো ভিন্ন হতে পারে এবং অনেক সময় তা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে কিছু লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যেমন - শরীরের একপাশে খিঁচুনি, দুর্বলতা, খাবার গিলতে অসুবিধা, শ্বাসকষ্ট, হাত-পা নাড়াতে সমস্যা অথবা শরীরের একপাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া, বিকাশে বিলম্ব, মৃগী রোগ, দৃষ্টি সমস্যা, বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বলতা অথবা কথা বলতে সমস্যা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের স্ট্রোকের প্রধান কারণগুলো হলো - রক্তনালীর সমস্যা, হৃদরোগ এবং রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা। মস্তিষ্কের রক্তনালীতে জন্মগত ত্রুটি থাকলে স্ট্রোক হতে পারে। এছাড়াও, রক্তনালী অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বা ফেটে গেলে, অথবা রক্তনালী ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেলে (ময়া ময়া রোগ) শিশুর স্ট্রোক হতে পারে। হৃদরোগের কারণেও শিশুদের স্ট্রোক হতে পারে। জন্মগতভাবে হৃদপিণ্ডে ছিদ্র থাকলে বা ভাল্বের সমস্যা থাকলে রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কে গিয়ে রক্তনালী আটকে দিতে পারে। রক্ত জমাট বাঁধার জন্মগত সমস্যা অথবা ঘনত্বের কারণে রক্ত জমাট বেঁধেও স্ট্রোক হতে পারে। হিমোফিলিয়ার মতো রোগেও এই ঝুঁকি থাকে। মস্তিষ্কে সংক্রমণ (মেনিনজাইটিস, এনসেফালাইটিস), বিভিন্ন নিউরোমেটাবলিক রোগ (হোমোসিস্টিনিউরিয়া, অর্গানিক অ্যাসিডেমিয়া, মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিজিজ) এবং বংশগত কারণগুলোও শিশুদের স্ট্রোকের জন্য দায়ী হতে পারে।
শিশুর মধ্যে স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করানো উচিত। হৃদরোগ নির্ণয়ের জন্য ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম ও বুকের এক্স-রে করা যেতে পারে। এছাড়াও, রক্ত জমাট বাঁধার উপাদান পরীক্ষা, মেটাবলিক পরীক্ষা, মস্তিষ্কের এনজিওগ্রাম এবং জেনেটিক পরীক্ষাও লাগতে পারে। স্ট্রোকের চিকিৎসায় শুধু লক্ষণগুলো কমানো নয়, ভবিষ্যতে ঝুঁকি কমানোর দিকেও নজর রাখা জরুরি। ওষুধের পাশাপাশি ব্যায়াম বা ফিজিওথেরাপি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিছু ক্ষেত্রে সার্জারিরও প্রয়োজন হতে পারে। স্ট্রোকের কারণ খুঁজে বের করে সঠিক চিকিৎসা করাও জরুরি। ।