Published : 21 Nov 2025, 11:06 AM
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় শুরু হওয়া মিস ইউনিভার্স ২০২৫-এর চূড়ান্ত পর্বে পাঁচটি দেশের প্রতিযোগীরা শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন। মেক্সিকো, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ভেনেজুয়েলা ও আইভরিকোস্টের সুন্দরীরা একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিচারকেরা প্রতিযোগীদের একাধিক প্রশ্ন করেন, যার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচন করা হয়। আর সেই প্রতিযোগিতায় সেরার মুকুট ওঠে ফাতিমা বশের মাথায়। মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ মূল পর্বের আগে একটি প্রিপ্যাজেন্ট অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। নিয়ম অনুযায়ী, যে দেশে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, সেই দেশের একটি প্রচারমূলক ভিডিও তৈরি করতে হয় প্রতিযোগীদের। আনুষ্ঠানিক ফটোশুটের পাশাপাশি কিছু অনানুষ্ঠানিক ছবিও তোলা হয়। তবে মেক্সিকোর ফাতিমা সময়মতো সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে দিতে পারেননি।
এই কারণে থাইল্যান্ডের পরিচালক নাওয়াত ইতসারাগ্রিসিল তাঁকে জনসমক্ষে ‘ডাম্বহেড’ বলে কটাক্ষ করেন। ফাতিমা বশ সঙ্গে সঙ্গে এর প্রতিবাদ করে বলেন, ‘আপনি একজন নারী হিসেবে আমাকে সম্মান করছেন না।’ এরপরও সঞ্চালক নিরাপত্তা কর্মীদের ডেকে তাঁকে শাসানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অন্য প্রতিযোগীরা সঙ্গে সঙ্গে ফাতিমার পাশে এসে বসেন এবং একসঙ্গে হল ত্যাগ করেন। এই ঘটনাটি ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল। ফাতিমা বশ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘একুশ শতকে কোনো নারীই অন্যের হাতের পুতুল হতে পারে না। আমরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে এবং নিজেদের মতো করে বাঁচতে পারি। আমি এখানে সকল নারীর প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছি, এবং আমাকে অসম্মান করা মানে পুরো নারীজাতিকে অসম্মান করা।
’ এই ঘটনার পর সঞ্চালক তিনটি ভিন্ন জায়গা থেকে ক্ষমা চান, কিন্তু মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ তাঁর ক্ষমা গ্রহণ করেনি এবং পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেয়। ফাতিমা বশের জনপ্রিয়তা এখন আকাশছোঁয়া। অনুষ্ঠান বর্জন করে অন্য প্রতিযোগীরাও প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ফাইনালে তিনি প্রমাণ করেছেন যে তিনি শুধু সুন্দরী নন, বুদ্ধিমত্তার দিক থেকেও অনন্য। মিস থাইল্যান্ড এই প্রতিযোগিতায় রানারআপ হন।।