Published : 16 Nov 2025, 01:08 PM
কৈশোরকাল মানব জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে শরীর ও মনের দ্রুত বিকাশ ঘটে, নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। উচ্চতা বৃদ্ধি, পেশি গঠন, মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং হরমোনের ভারসাম্য—সবকিছুই এই বয়সের পুষ্টির ওপর নির্ভরশীল। তাই শৈশবে পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব ঘটলে তা শুধু সাময়িক দুর্বলতা নয়, বরং ভবিষ্যৎ জীবনের সুস্থতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। দ্রুত শারীরিক পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে কিশোর-কিশোরীদের প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত। পুষ্টির অভাবে পেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে, হাড়ের ঘনত্ব কমে যেতে পারে, উচ্চতা কম হতে পারে এবং অল্পতেই ক্লান্তি আসতে পারে। এর ফলস্বরূপ, প্রাপ্ত বয়সে শারীরিক সক্ষমতা হ্রাস পায়। বিশেষ করে কিশোরীদের মধ্যে আয়রনের অভাব দেখা যায়, যা রক্তাল্পতা, মাথা ঘোরা, মনোযোগের অভাব, শারীরিক দুর্বলতা এবং ঘন ঘন অসুস্থ হওয়ার কারণ হতে পারে। এটি পড়াশোনা ও অন্যান্য দৈনন্দিন কাজে বাধা সৃষ্টি করে।
মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল ও ফ্যাটি অ্যাসিডের অভাব হলে শেখার ক্ষমতা কমে যায়, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মানসিক চাপ সহ্য করার ক্ষমতা হ্রাস পায়। অপুষ্টি ধীরে ধীরে শিক্ষাগত অগ্রগতিকে ব্যাহত করতে পারে। অপুষ্টির শিকার কোনো কিশোরী ভবিষ্যতে মা হলে তার গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং নবজাতকের ওজন কম হতে পারে। অপুষ্টি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা একটি দুষ্টচক্রের মতো কাজ করে। শর্করা জাতীয় খাবারের মধ্যে লাল চাল, আটা, চিড়া এবং ওটস রাখা যেতে পারে। শাকসবজি, যেমন— পালং শাক, বেগুন, করলা, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, লাউ, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, গাজর ও মুলা ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেনের চমৎকার উৎস। দুধ, টকদই, ডিম, মাছ, মাংস, ডাল এবং শিমজাতীয় খাবার আমিষের চাহিদা পূরণ করে। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর জন্য দুধ, দই, পনির, ছোট মাছ, কচুশাক, শজনেপাতা, কুমড়ার বীজ এবং হালকা রোদ পোহানো জরুরি। মাংস, মাছ, ডাল এবং কুমড়ার বীজ জিঙ্কের ভালো উৎস।
আয়োডিনের জন্য দুধ, দই, ডিম, চিংড়ি এবং সামুদ্রিক মাছ খাওয়া উচিত। আয়রনের চাহিদা পূরণের জন্য মাছ, মাংস, ডিম, কচুশাক, পুঁইশাক, তরমুজ, জাম, খেজুর এবং তেঁতুল উপকারী। পেয়ারা, আমড়া, আমলকী, লেবু, জলপাই, জামরুল, টমেটো, কামরাঙা, পেঁপে ও আনারসে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। প্রক্রিয়াজাত খাবার, ভাজা-পোড়া খাবার, ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত তেল-চর্বি ও লবণাক্ত খাবার এবং কোমল পানীয় পরিহার করা উচিত। পরিমিত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করাও জরুরি। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ কৈশোরকালীন স্থূলতার জন্য দায়ী। মো. নাহিদ নেওয়াজ, টেকনিক্যাল অফিসার, নিউট্রিশন, হীড বাংলাদেশ।।