Published : 02 Nov 2025, 09:06 PM
সাভারের সবুজ পরিবেশে বেড়ে ওঠা সামিয়া ইসলামের ছাত্রজীবনটা আর পাঁচজনের মতো ছিল না। খেলাধুলা আর বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোই ছিল তাঁর প্রধান আনন্দ। তবে হাইস্কুলে পা দেওয়ার পর তাঁর জীবনে আসে এক নতুন মোড়। তিনি বুঝতে পারেন, জীবনে সফল হতে হলে শুধু খেলায় মগ্ন থাকা বা পড়াশোনায় ফাঁকি দেওয়া চলবে না। এরপর শুরু হয় তাঁর রাতভর অধ্যয়ন। সামিয়া вспомина করেন, “ছোটবেলায় আমি পড়াশোনায় একদম অমনোযোগী ছিলাম। কিন্তু হাইস্কুলে যখন বুঝলাম যে ভালো ফল না করলে পরের সেমিস্টার পার করা কঠিন, তখন থেকেই শুরু হলো রাতভর পড়ার অভ্যাস।” সেই অভ্যাস তাঁকে পৌঁছে দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে। তবে সামিয়ার আগ্রহ ছিল গণিত ও সামাজিক বিজ্ঞানের প্রতি। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঙ্গে তাঁর তেমন সংযোগ ঘটছিল না। আরও পড়ুনপাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ না পাওয়াই টার্নিং পয়েন্ট, এখন পড়ছেন অক্সফোর্ডে১২ ঘণ্টা আগে বাধ্য হয়ে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে দ্বিতীয়বার ভর্তি হন।
সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর নতুন জীবন। পছন্দের বিষয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে তিনি বুঝতে পারেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে আসাটা ভুল ছিল না। এরপর তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ বৃত্তিসহ পড়ার সুযোগ পান। সামিয়া পাঁচ বছরের পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যায়ন করবেন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় জীবন সহজ ছিল না। অনার্স ও মাস্টার্সে তাঁর থিসিস ছিল না। তবে সামিয়া দমে যাননি। তিনি নিজের চেষ্টায় গবেষণা শিখেছেন, শিক্ষকদের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন কনফারেন্সে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “থিসিস না থাকায় আমাদের রিসার্চের সুযোগ কম ছিল। তবে নিজের চেষ্টায় কাজ শিখেছি বলেই হয়তো আমার আবেদনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।” স্নাতক জীবন থেকেই সামিয়া অর্থনীতি বিষয়ক কাজ খুঁজছিলেন।
সুযোগ পেলেই ছোটখাটো ইন্টার্নশিপ করতেন এবং গবেষণা প্রকল্পে অংশ নিতেন। এই অভিজ্ঞতাগুলোই তাঁকে সাহায্য করেছে। সামিয়া বলেন, “সানেমে ইন্টার্নশিপ করার অভিজ্ঞতা আমার প্রোফাইলকে সমৃদ্ধ করেছে। পড়াশোনা, গবেষণা এবং পরিচিতি—সবকিছু মিলিয়েই আমার প্রোফাইল তৈরি হয়েছে।” বৃত্তির জন্য তাঁকে আলাদা করে আবেদন করতে হয়নি। তিনি শুধু আবেদনপত্রে উল্লেখ করেছিলেন যে তাঁর বৃত্তির প্রয়োজন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর জন্য সম্ভাব্য বৃত্তি খুঁজে দেয়। সামিয়া ক্লারেন্ডন স্কলারশিপ পেয়েছেন। মেধার ভিত্তিতে প্রতি বছর এমডিফিল ইন ইকোনমিকস প্রোগ্রামের একজন শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তি দেওয়া হয়। আরও পড়ুনঅনলাইনে ‘স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ার’ শেষ হচ্ছে আজ, ‘ঘুরে আসুন’ এখনই৯ ঘণ্টা আগে।