Published : 18 Jun 2026, 10:44 PM
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের সকল আমানতকারীদের আশ্বস্ত করেছেন যে তাদের টাকা তুলতে কোনো সমস্যা হবে না। তিনি জানিয়েছেন, এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু বিশেষ সরঞ্জাম বা টুলস রয়েছে, যা তিনি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রয়োগ করবেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে আমানতকারীরা যেকোনো সময় তাদের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। গভর্নর আরও যোগ করেন যে ইসলামী ব্যাংকের জন্য প্রয়োজনীয় জরুরি তারল্য সহায়তা (Emergency Liquidity Support) প্রদান করা হবে। শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই বক্তব্য দেন তিনি। গভর্নর আরও উল্লেখ করেন যে ঈদের আগে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। যেহেতু একটি সিস্টেমিক ব্যাংকের জন্য ন্যূনতম পাঁচ সদস্যের বোর্ড থাকা আবশ্যক, তাই দ্রুত একজনকে নিয়োগের প্রয়োজন ছিল। অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রসঙ্গে গভর্নর স্পষ্ট করেন যে ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডটি অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত। এই পাঁচ সদস্যের বোর্ডের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকায় তাকে ১৬ মার্চ পরিবর্তন করা হয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রক্রিয়ায় কোনো বোনাস, বদলি বা পদোন্নতির জন্য কোনো হস্তক্ষেপ করা হয়নি। ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, জুলাই ২০২৪-এ ইসলামী ব্যাংকের এডিআর (ঋণ-আমানত অনুপাত) ছিল ৯৩, যা বর্তমানে ৯৭-৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। নির্ধারিত সীমা ছিল ৯২। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে তা কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, তিনি এমন সময়ে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন যখন ব্যাংকিং খাতে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থ চুরি হয়ে গেছে। খেলাপি ঋণ (এনপিএল) ৩৫ শতাংশ থেকে ৩৬ শতাংশে উন্নীত হওয়ার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হয়। তাঁর লক্ষ্য ছিল প্রথমে খাতটিকে স্থিতিশীল করা এবং তারপর তা শক্তিশালী করা। তিনি আরও বলেন, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমানত চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে সকলের ধৈর্য প্রয়োজন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছিল যে এই সরকার আসার পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে গভর্নর জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেখেছেন যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন এবং মনোনীত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছুক। নতুন এমডি নিয়োগের জন্য ২৫ মার্চ পর্যন্ত আবেদনের সময় দিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। বিভিন্ন সংস্থা থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ এবং সাক্ষাৎকার গ্রহণের পর ১২ বা ১৩ মে এমডি নির্বাচন সম্পন্ন হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর ও অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনের মাধ্যমে মে মাসের শেষে এই প্রক্রিয়া শেষ হয়। বর্তমানে বোর্ডের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং গত মঙ্গলবার বা বুধবার নতুন চেয়ারম্যান প্রথম সভা করেছেন। একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার (সিবিএস) সমন্বয়ের অভাব রয়েছে, যার সমাধান বর্তমানে চলছে। এনবিএফআই (আর্থিক প্রতিষ্ঠান) সংক্রান্ত বিষয়ে সুখবর দিয়ে গভর্নর জানান, আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে কয়েকটি এনবিএফআই-এর সমস্যার সমাধান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১২ বছর ধরে যে আমানতকারীরা অর্থ পাচ্ছিলেন না, তাদের টাকা ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে কৌশলগত গভীরতার অভাব: আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাজেটে ত্রুটি