Published : 17 Jun 2026, 06:14 PM
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে নতুন পথে চালিত করতে সরকারের সদিচ্ছার কিছু প্রতিফলন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে তিনি বলেন, "বাজেটে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং গতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত গভীরতার অভাব স্পষ্ট। যদিও আন্তরিক প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে, কিন্তু তা যথেষ্ট গভীরতা প্রদান করছে না।" স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিপুল অর্থ বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেট বড় হওয়ার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করা নয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, "স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়ে বাজেটে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা বা রোডম্যাপ অনুপস্থিত।" বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রের দক্ষতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের প্রায় ৬৬ শতাংশই পরিচালন ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, বিশেষত যখন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য কোনো সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা দিকনির্দেশনা নেই। ব্যাংকিং খাতের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে জিল্লুর রহমান উল্লেখ করেন, কিছু সংস্কার উদ্যোগ থাকলেও ইসলামী ব্যাংকের চলমান অস্থিরতা সেই প্রচেষ্টার বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
তিনি মন্তব্য করেন, "একদিকে ব্যাংকিং সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকে বিশৃঙ্খলা বিদ্যমান। এই বৈপরীত্য একটি বড় বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি করছে।" সরকারের ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেন এবং মনে করেন প্রকৃত রাজস্ব আদায় এই লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছানো কঠিন।।