Published : 23 Aug 2026, 10:16 AM
কলেরা প্রতিরোধের লক্ষ্যে দেশের ১৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দুই ডোজের মুখে খাওয়ার কলেরা টিকা (ওসিভি) প্রদান শুরু হয়েছে। এই বিশেষ 'প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬'-এর প্রথম ধাপটি আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। দ্বিতীয় ডোজ প্রদানের কাজ ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর শুরু হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঘোষণা করেছে যে, এক বছর বা তার বেশি বয়সী সকল সুস্থ নাগরিক বিনামূল্যে এই টিকা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে গর্ভবতী নারীদের এই কর্মসূচির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্র এবং ইপিআই বুথগুলোতে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে টিকা দেওয়া হবে। এই বিশাল উদ্যোগে ৫১ লাখেরও বেশি মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর সহ মোট ১৭টি ওয়ার্ডে ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষের টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও অঞ্চল, মুন্সিগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর উপজেলায়ও এই কর্মসূচি চলমান থাকবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ স্পষ্ট করেছেন, "কলেরার টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক আগে নেওয়া হয়েছিল। এখন শুধু তা বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়; দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার জন্য দুই ডোজ টিকা অপরিহার্য।" সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এই দুই ডোজ টিকা প্রায় তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে সক্ষম। ডা. হালিমুর রশিদ আরও উল্লেখ করেন যে, গবেষণায় দেখা গেছে, 'ইউরিকল প্লাস' নামক টিকাটি বর্তমানে প্রচলিত কলেরা টিকাসমূহের মধ্যে নিরাপদ এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম।
কিছু ক্ষেত্রে হালকা বমি ভাব বা সাময়িক ডায়রিয়ার মতো মৃদু প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, গ্লোবাল টাস্কফোর্স অন কলেরা কন্ট্রোলের সঙ্গে গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স (গ্যাভি)-এর বিশ্লেষণী টুল ব্যবহার করে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, শুধুমাত্র টিকাদানের ওপর নির্ভর না করে নিরাপদ পানি পান, খাবার ঢেকে রাখা, স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও কলেরা প্রতিরোধে সমান গুরুত্বপূর্ণ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, ব্যাপক টিকাদান এবং ভবিষ্যতে মহামারি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এর প্রভাব সময়ের সাথে আরও স্পষ্ট হবে। মুখে খাওয়ার কলেরা টিকা (ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন) নিতে উপযুক্ত নাগরিকদের ভ্যাক্সইপিআই ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য স্ক্যান করে পূরণ করতে হবে।।
ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার ফারহান ৫ দিনের রিমান্ডে