Published : 20 Aug 2026, 04:17 AM
দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার স্বার্থে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে এবার প্রায় ৩২ লক্ষ মার্কিন ডলার ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে কারণ, কাঁচামালের সংকট দেখা দিলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার গুরুতর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় ঘটার ঝুঁকি রয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট), বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে এই সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে রূপালী ব্যাংকের অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণের অবশিষ্ট ৩১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫৬১ ডলার ছাড় এবং নতুন এলসি খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত রোববারও একই ধরনের অনুমতি প্রদান করা হয়েছিল।
ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদ স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে এই ঋণ ছাড় ও এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ কক(৩) ধারার বিধান কার্যকর হবে না। তবে, এই ঋণসুবিধার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু বিশেষ শর্ত আরোপ করেছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সুবিধা প্রদানের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো আর্থিক দায় সৃষ্টি হবে না এবং ভবিষ্যতে রূপালী ব্যাংক এই এলসি বাবদ কোনো আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছেন, উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থেই ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও এসএস পাওয়ার-১-কে এই বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অতীতেও জনস্বার্থে এবং কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন সংস্থাকে এমন সুবিধা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা এলাকায় এস আলম গ্রুপ এবং চীনের দুটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপিত।
এই প্রকল্পে এস আলম গ্রুপের ৭০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে এবং বাকি ৩০ শতাংশের মালিক চীনা সেপকো থ্রি ও এইচটিজি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ৬৬০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিটের মাধ্যমে কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ২ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি এবং এর একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই খেলাপি। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খেলাপি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নতুন ঋণ বা এলসি খোলার সুযোগ থাকে না। কিন্তু বিদ্যুৎ সংকটের এই জরুরি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিধিনিষেধ শিথিল করে এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।।
জ্বালানি সুরক্ষায় বাংলাদেশের পাশে কাতারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী