Published : 19 Aug 2026, 06:17 AM
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড থেকে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা সামনে এসেছে। এই ঘটনায় বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস এবং কালো স্লাজ শনাক্ত করা হয়েছে জাহাজের আরও তিনটি ব্যালাস্ট ট্যাঙ্কে। গত শুক্রবার এই স্থানে বিষাক্ত গ্যাসের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ৯ জন শ্রমিক প্রাণ হারান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তদন্ত দল ও বিশেষজ্ঞ কমিটির যৌথ পরিদর্শনের পর এই তথ্য সামনে আসে। পরিদর্শনকালে তদন্তকারীরা জাহাজের মোট আটটি ব্যালাস্ট ট্যাংকের ওপর ও নিচের স্তরের পানির নমুনা সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে তিনটি ট্যাংকে ঘন কালো স্লাজ পাওয়া যায়। যদিও জাহাজের খোলা জায়গায় কোনো হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের অস্তিত্ব মেলেনি, তবে নমুনা সংগ্রহের সময় পানি নাড়াচাড়া করার ফলে তিনটি ট্যাংকের ভেতরে ৮ থেকে ১৮ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) গ্যাসের উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়। বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে এই গ্যাসটি পানির সঙ্গে মিশ্রিত অবস্থায় রয়েছে।
পানি স্থির থাকলে গ্যাস নির্গমন কম হলেও, পানি ও স্লাজ অপসারণের সময় এটি পুনরায় ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন। সংগৃহীত নমুনাগুলো বিশ্লেষণের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই স্লাজের প্রকৃতি এবং পানিতে থাকা ক্ষতিকারক রাসায়নিকের সঠিক মাত্রা নির্ণয় করা সম্ভব হবে। তদন্ত দলের সদস্য ও পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক জমির উদ্দিন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, "সারাদিন ধরে জাহাজটি একাধিকবার পরিদর্শন করা হয়েছে। বর্তমানে জাহাজের খোলা জায়গায় কোনো গ্যাস নেই। তবে নমুনা সংগ্রহের সময় তিনটি ট্যাংকে হাইড্রোজেন সালফাইড এবং তলানিও পাওয়া গেছে। ল্যাব রিপোর্ট পাওয়ার পরই আমরা স্লাজ ও পানির মধ্যে রাসায়নিকের সঠিক মাত্রা নিশ্চিত করতে পারব।" তদন্ত দলের আরেক সদস্য ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী আরও বলেন, "ল্যাব রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর 'প্রান্তিক মেরিন' নামে একটি প্রতিষ্ঠান ট্যাংকগুলো থেকে পানি ও স্লাজ অপসারণ এবং গ্যাস-মুক্ত করার একটি কার্যকর পরিকল্পনা জমা দেবে।
বিশেষজ্ঞ কমিটি সেই পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।" বর্তমানে জাহাজের উপরিভাগ নিরাপদ বলে মনে হলেও ব্যালাস্ট ট্যাংকের অভ্যন্তরে স্লাজ ও গ্যাসের উপস্থিতির কারণে জাহাজটির সমস্ত কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। গত শুক্রবার ওই জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংক থেকে পানি অপসারণের সময় বিষাক্ত গ্যাসে ৯ জন শ্রমিক নিহত এবং অন্তত ৬ জন আহত হন। বাংলাদেশের জাহাজভাঙা শিল্পের ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো বিষাক্ত গ্যাস লিকের ঘটনা। এই গুরুতর ঘটনার তদন্তে বর্তমানে চারটি পৃথক কমিটি কাজ করছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর এই তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে অংশ নিচ্ছে।।