Published : 19 Aug 2026, 12:16 AM
দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ়, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যতের দিকে চালিত করতে ভারত আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে নয়াদিল্লি পারস্পরিক স্বার্থ ও বিনিময়ের ভিত্তিতেই এই সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জয়সওয়াল এই বক্তব্য প্রদান করেন। যখন বাংলাদেশে ভারতের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা জানতে চাওয়া হয়, তখন জয়সওয়াল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক দিকগুলোর ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, 'ভারত বাংলাদেশের সাথে পারস্পরিক সুবিধা ও বিনিময়ের ভিত্তিতে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।' জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল-কায়েদার কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।
এই প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে জয়সওয়াল জানান যে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশের সাথে যৌথভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, 'সন্ত্রাসবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা সবার জন্য উদ্বেগের বিষয়, এবং আমরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে লড়াই করতে চাই।' জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের 'অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাঙ্কশন মনিটরিং টিম'-এর ৩৮তম প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে আল-কায়েদা বাংলাদেশে নিজেদের ঘাঁটি স্থাপনের চেষ্টা করছে। এর একদিন আগেই বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জাতিসংঘের এই পর্যবেক্ষণকে কেবল 'অনুমাননির্ভর' বলে অভিহিত করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে জয়সওয়াল জানান, 'এই বিষয়ে কোনো নতুন তথ্য থাকলে আমরা আপনাদের সাথে তা ভাগ করে নেব।' ভারত থেকে অতিরিক্ত চার হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ প্রসঙ্গে মুখপাত্র জানান যে জ্বালানি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা এখনও চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'অতিরিক্ত অনুরোধের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। আমাদের নিজস্ব চাহিদা, পরিশোধন ক্ষমতা এবং প্রাপ্যতার বিষয়গুলো বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।' তিস্তা নদীর জল বণ্টন নিয়ে ঢাকা থেকে নতুন কোনো আলোচনার অনুরোধ এসেছে কিনা—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি নিশ্চিত করেন যে অভিন্ন নদীর জল বণ্টন সংক্রান্ত সকল ইস্যু প্রতিষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর মাধ্যমেই সমাধান করা হয়। এই ক্ষেত্রে তিনি যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কারিগরি কমিটিগুলোর ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন।।
দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার: দুদকের নতুন প্রধানের বার্তা